সেঞ্চুরি নাম্বার ৮৪। বাতাসে ঘুষি মেরে বিরাট কোহলির আকাশ ছোঁয়ার প্রয়াশ। কিন্তু এই আনন্দ আয়োজনের ব্যপ্তিটা হতে পারত নীলাম্বর সমান বিশাল। শততম সেঞ্চুরির রেকর্ডের যতটুকু কাছে যাচ্ছেন বিরাট- ততই যেন ব্যস্তানুপাতিক হারে বাড়ছে আক্ষেপের দীর্ঘশ্বাস। শচীন টেন্ডুলকারের একশোটি সেঞ্চুরির পাশে বিরাটও বসতে পারতেন। কিন্তু তা আর শেষ অবধি হয়ত হবে না বাস্তব। পেছনে আছে তিন কারণ।
প্রথমত, বিরাটের টেস্ট ছেড়ে দেওয়া। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচটি খেলে ফেলেছেন বিরাট। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বিরাট শেষবারের মত নেমেছিলেন সাদা জার্সিতে। এরপর আরও নয়টি টেস্টে মাঠে নেমেছে ভারত। অবচেতন মন বিরাটকে খুঁজলেও, মেটেনি মনের খোরাক।
এই নয় টেস্টের ১৮ ইনিংসে বিরাট অন্তত আরও কিছু সেঞ্চুরি পেয়ে যেতে পারতেন। অন্তত ছ’খানা। তাহলেই তো সেঞ্চুরির সংখ্যাটা ছুঁয়ে যেত ৯০ এর কোটা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডেতে টানা দুই সেঞ্চুরি আক্ষেপ যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি বার্তাও দিয়েছে- বিরাটের এখনও অনেক কিছু দেওয়া বাকি।

বিরাটের সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি যদিও বা না হয়, তাহলে সেটার পেছনে অনেক বড় কারণ- তার দীর্ঘদিনের সেঞ্চুরি খরা। প্রায় দুই বছর ধরে সেঞ্চুরির দেখা পাননি বিরাট কোহলি। এই দীর্ঘ সময়ে ১৮টি টেস্ট, ২৩টি ওয়ানডে ও ৩১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন বিরাট। এত বিপুল পরিমাণ ম্যাচ খেলেও সেঞ্চুরির দেখা তিনি পাননি।
তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৭২ ম্যাচের ৮৩ ইনিংসে ব্যাট হাতে বাইশ গজে এসেছিলেন বিরাট। কিন্তু তাকে ফিরতে হয়েছে নিরাশ হয়ে। এর বিরাটের ছন্দপতনের অন্যতম কারণ ছিল কোভিড মহামারী। এর আগের বছরটি, অর্থাৎ ২০১৯ সালেই কোহলির ব্যাট থেকে এসেছিল সাতটি সেঞ্চুরি। যার একটি আবার ছিল ডাবল সেঞ্চুরি।
ওই মহামারী বিরাটকে মহামানব হতে দেয়নি। ক্রিকেট ময়দান থেকে লম্বা সময়ের বিরতি তাকে ভুগিয়েছে ভীষণ বাজেভাবে। ওই সময়টুকুর জন্য ভাগ্যকে দোষ দিতেই পারেন বিরাট কোহলি। শ্রেষ্ঠত্বের মহামুকুট যে হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে ওই সব দিনগুলোর জন্য। এই আক্ষেপের আগুন নেভানো যে অসম্ভব।












