২০২৩ সালের পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) নিলামে অংশ নিয়ে কোনো দল পাননি এক পাকিস্তানি তরুণ। ২০২৬ সাল আসতে আসতে সেই তিনিই পাশার দান উলটে দিয়েছেন। সদ্য শুরু হওয়া পিএসএলে তিনি খেলছেন হায়দ্রাবাদ কিংসম্যানের হয়ে। পাশার দান উল্টেছে কারণ তিনি এখন আর পাকিস্তানি নন, বিদেশি।
গল্পটা হাসান খানের। পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া প্রতিভাবান এক অলরাউন্ডার। উদীয়মান তরুণ অলরাউন্ডার হিসেবে তিনি ছিলেন ২০১৭-১৮ সালের পিএসএলে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়্যেটর্সের দলে। একাদশে জায়গা পেতেন নিয়মিত। কিন্তু, তারপর ফর্মের পতন ঘটলো। পরের কয়েক মৌসুমে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন এত কম যে সেই সংখ্যা হাতের আঙুলে হিসেব করা যায়।
এতকিছুর মাঝে ২০২৩ সালের পিএসএলে তাকে কেনার আগ্রহ প্রকাশ করলো না কোনো দল। আর কেউ হলে হয়তো হাল ছেড়ে দিতেন। কিন্তু, হাসান হাল ছাড়লেন না। তবে, পড়ে রইলেন না পাকিস্তানে। উড়াল দিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে গিয়ে চালাতে লাগলেন ব্যাট-বলের লড়াই।

শুরু করেছিলেন মাইনর লিগ ক্রিকেট দিয়ে। সেখানে ভালো করার দরুণ ডাক পাওয়া গেল মেজর লিগ ক্রিকেটে। ভালো খেলেছেন ক্যারাবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল)। এত জায়গায় পারফর্ম করার পুরষ্কার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) তাকে খেলতে দেখা যায়।
ফিরে আসার দারুণ এক গল্প লিখে আবারও পিএসএলের মাঠে নেমেছেন হাসান খান। ২০২৬ সালের পিএসএলের প্রথম উইকেটটিও লেখা হয় তার নামে। হায়দ্রাবাদ কিংসম্যানের জার্সি গায়ে মাঠে নামা এই তরুণ এবার পাকিস্তানের স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবে খেলছেন না। নিলামে অংশ নিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড় হিসেবে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ময়দানে এখনো অভিষেক হয়নি হাসান খানের। যেভাবে নিয়মিত ভালো খেলে যাচ্ছেন তাতে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামতে দেখা যেতেই পারে। কিন্তু, কোন দেশের হয়ে খেলবেন তিনি? পাকিস্তান নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে, সেটাই এখন আলোচ্য বিষয়।











