ভালো করে বাংলা বলতে পারেন না দুইজনের কেউই। কিন্তু, তাতে কি আর বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়াতে বাধা আসে? না, এমন কোনো বাধা আসেনি সুলিভান ভাইদের জন্য। বাধা আসতে দেননি সুলতানা আলম।
জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হলেও লাল-সবুজের পতাকার জন্য যমজ দুই ভাইকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন ডেকলান আর রোনানের নানী। সুলতানা আলমের বয়স ৮৬ হলেও দেশের প্রতি ভালোবাসা কমে যায়নি তাঁর। তাই তো, দুই নাতিকে দিয়ে সাত-সমুদ্র পাড়ি দিতে ভাবেননি দুইবার।
পেনাল্টি শুটআউটে ভারতকে হারিয়ে সদ্য অনুর্ধ্ব-২০ সাফ জিতেছে বাংলাদেশ। বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ এক শট নিয়ে রোনান সুলিভানের বল জালে জড়ানোর সাথে সাথে দ্বিতীয়বারের মতো সাফ জিতল বাংলাদেশ। আর, এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সুলিভান যমজেরা।

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিয়ে এই দেশের হয়ে খেলা সহজ বিষয় নয়। তার উপর বাবা-মা দুজনেই নিজেদের পেশাগত জীবন নিয়ে প্রচুর ব্যস্ত। সেখানেই ফুটবলপ্রেমী দুই ভাইয়ের জন্য ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তাঁদের নানী।
ঢাকায় বড় হওয়া সুলতানা পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক জার্মান অধ্যাপককে জীবনসঙ্গী করে যুক্তরাষ্ট্রে জীবন কাটিয়েছেন। এবার দেশে ফিরলেন নাতিদের নিয়ে। বয়সের ভার মাথায় না নিয়ে এখন নাতিদের সঙ্গ দিচ্ছেন।
বাংলাদেশি রক্ত গায়ে থাকা দুই ভাইয়ের প্রতিভা নিয়ে সন্দেহের কিছু নেই। নানী সুলতানা আলম বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ নিয়ে তাঁদের প্রবল আগ্রহের কথা।

এখন এসে নিজেদের নানীকে দর্শকের আসনে বসিয়ে বাংলাদেশের জন্য শিরোপা এনে দিয়েছেন দুই ভাই। বাবা-মাকে পুরো সময়ে পাশে না পেলেও আজ দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারছেন নিজেদের নানী সুলতানা আলমের কারণেই।










