তিন ‘১৯’-এর বিস্ময়!

লামিন ইয়ামালের বিশ্বকাপ জয়ের গল্পটাও ঠিক তেমন। বয়স ১৯, পিঠে ১৯ নম্বর জার্সি, আর বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার দিনটিও ১৯ জুলাই। তিনটি '১৯' মিলে যেন ফুটবলকে উপহার দিল এক অবিশ্বাস্য গল্প।

সংখ্যা কি কখনো ইতিহাস লেখে? সাধারণত না। কিন্তু কখনো কখনো কিছু সংখ্যা এমনভাবে পাশাপাশি এসে দাঁড়ায়, তখন মনে হয় ভাগ্য যেন অনেক আগেই লিখে রেখেছিল শেষ অধ্যায়। লামিন ইয়ামালের বিশ্বকাপ জয়ের গল্পটাও ঠিক তেমন। বয়স ১৯, পিঠে ১৯ নম্বর জার্সি, আর বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার দিনটিও ১৯ জুলাই। তিনটি ‘১৯’ মিলে যেন ফুটবলকে উপহার দিল এক অবিশ্বাস্য গল্প।

জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকেই ১৯ নম্বর জার্সিটিই তাঁর পরিচয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বিশ্বকাপে হয়তো তাঁকে ১০ নম্বর জার্সি দেওয়া হবে। কিন্তু স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন আগের মতোই ১৯ নম্বরটি রেখেছিল তাঁর জন্য। তখন হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি, কয়েক সপ্তাহ পর এই নম্বরই ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত কাকতালের অংশ হয়ে যাবে। এরপর তো ১৯ জুলাই আর্জেন্টিনার সামনে থেকে শিরোপা বাগিয়ে নিল স্পেন,ইয়ামালের বয়সের খাতা খুললে সেটা ১৯ ।

তবে শুধুই সংখ্যার কারণে ইয়ামাল আলোচনায় আসেননি। মাঠের পারফরম্যান্সই তাঁকে এনে দিয়েছে এই মর্যাদা। ১৬ বছর বয়সে স্পেনের জার্সিতে অভিষেক করে গোল করেছিলেন তিনি, যা জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার ও গোলদাতার রেকর্ড। এরপর ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন বিশ্বের অন্যতম সেরা তরুণ ফুটবলার হিসেবে। আর বিশ্বকাপে এসেও বড় ম্যাচের চাপ সামলে স্পেনের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে।

মজার ব্যাপার হলো, ১৯ নম্বর জার্সির সঙ্গে বিশ্বকাপের আরেকটি স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে ১৯ নম্বর জার্সি পরেই খেলেছিলেন লিওনেল মেসি। ঠিক দুই দশক পর সেই একই নম্বর গায়ে সেই মেসির সামনে দাঁড়িয়েই বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসলেন ইয়ামাল।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link