চোখের শান্তির জোগানদাতা ডেলিভারি। মাহিশ থিকসানার অস্ত্রের ঝুলি থেকে বেড়িয়ে এলো অফব্রেক। মিডল স্ট্যাম্পে পিচ করা বলটা, বা-হাতি মার্ক চ্যাপম্যানের অফস্ট্যাম্পে আঘাত হানল। এক কথায় দৃষ্টিনন্দন!
এদিন বলহাতে শেষ ওভারের আগে পর্যন্ত থিকসানা ছিলেন দুর্ধর্ষ। কিন্তু শেষ ওভারে তালগোল পাকিয়ে দিনটাই মাটি করে দেন লঙ্কান এই স্পিনার। হজম করেন ২১ রান। তাতেই যেন দারুণ দিনটার সব আলো বিবর্ণ হয়ে যায়। তবে শুরুতে তিনি একাই যেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের করে ফেলেছিলেন কোণঠাসা।
প্রথম তিন ওভারে থিকসানার খরচ ছিল মাত্র নয় রান। উইকেট সংখ্যা ছিল তিনটি। মার্ক চ্যাপম্যান ছাড়া ফিন অ্যালেন ও রাচিন রবীন্দ্রকেও আউট করেছিলেন। অ্যালেনকে তো নিজ হাতে ক্যাচ লুফে ফিরিয়েছিলেন প্যাভিলিয়নে। রাচিনকে আউট করতে তাকে সহয়তা করেন দুশান হেমন্তা।

থিকসানা নিজের প্রথম তিন ওভারে রীতিমত নাভিশ্বাস তুলে ফেলেছিলেন। নিজের বোলিং স্পেলের প্রথম ওভারেই অ্যালেনকে ফিরিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের মস্তিষ্কের ত্রাসের সৃষ্টি করেন। ভীষণ চাপে পড়া নিউজিল্যান্ড অপেক্ষায় ছিল খেলাটা যতটা সম্ভব দীর্ঘায়িত করা যায়।
থিকসানাদের সৃষ্ট চাপের বলয় টিকে ছিল ইনিংসের ১৬ ওভার পর্যন্ত। সেই পর্যন্ত ছয় উইকেটে স্রেফ ৯৮ রান স্কোরবোর্ডে তুলতে সক্ষম হয় ব্ল্যাকক্যাপসরা। কিন্তু এরপরই যেন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া কিউই ব্যাটাররা পালটা আক্রমণ শুরু করেন। দুশমন্থা চামিরা এক ওভারে ১৮ রান হজম করেন। এরপরের ওভারেই থিকসানাকে বেধম প্রহারের মুখোমুখি হতে হয়।
তাতে করে সহজ লক্ষ্য পাওয়ার যে স্বপ্ন বুনেছিল লঙ্কানরা সেটা ম্লান হয়ে যায়। মার্ক চ্যাপম্যানকে আউট করা ডেলিভারিতে যতটা নিয়ন্ত্রণ ছিল থিকসানার, তা সব যেন এক লহমায় উবে যায়। শেষ ওভারে ওয়াইড দিয়ে শুরু করেন। একটা জুসি ফুলটস ছুড়ে দেন তিনি, এক চারে এক ছক্কা হজমের পর।

আগের তিন ওভারে একটিও বাউন্ডারি হজম না করা থিকসানা, শেষ ওভারে দুই ছক্কাসহ একটি চারের মার সহ্য করতে হয় তাকে। মাথা ঠান্ডা রেখে নিজের স্বভাবজাত রহস্য়ের ঝুলির পসরা ঠিকঠাক প্রদর্শন করতে পারলেই তা শ্রীলঙ্কার জন্য হতে পারত ভীষণ স্বস্তিদায়ক।











