মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ঘোরতর দু:সময়ে আইপিএলের মিনি নিলাম দরজায় কড়া নাড়ছে। সব ফ্র্যাঞ্চাইজিই আগামী মৌসুমের আগে নিজেদের দল আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি নিলামের অপেক্ষায় আছে মুম্বাই।
গত আসরে তারা কোয়ালিফায়ার–২ পর্যন্ত উঠেছিল, কিন্তু পাঞ্জাব কিংসের কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যায়। সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে ষষ্ঠ আইপিএল ট্রফির খোঁজে দলটি এবার নিলামে বড় পরিবর্তন আনতে চায়।
মুম্বাইয়ের সবচেয়ে আলোচ্য জায়গা তাদের ওপেনিং জুটি। রোহিত শর্মা ও রায়ান রিকেলটনের ওপেনিং জুটি গত মৌসুমে ভালো করলেও, কোয়ালিফায়ারে রিকেলটন অনুপস্থিত থাকায় কম্বিনেশন ভেঙে যায় এবং দল ছন্দ হারায়।
আগে রোহিতের সঙ্গে ঈশান কিষাণ ওপেন করতেন, এবং দু’জনের বোঝাপড়াও ছিল দারুণ। তাই ঈশানকে আবার দলে ফেরানো মুম্বাইয়ের জন্য বেশ কার্যকর সিদ্ধান্ত হতে পারে। রোহিত–ঈশান জুটি ফিরলে মুম্বাইয়ের টপ অর্ডারে স্থিতি ফিরবে, আর রিকেলটন থাকলে অতিরিক্ত বিকল্পও পাওয়া যাবে।

তবে ওপেনিংয়ের পাশাপাশি ফিনিশিংয়ের জায়গাটিও মুম্বাইয়ের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক সময় হার্দিক পান্ডিয়া ছিলেন দলের নির্ভরযোগ্য ফিনিশার। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় মুম্বাইয়ে ফিরে তিনি ব্যাটিং অর্ডারে উপরে উঠেছেন, মূলত পাঁচ নম্বরে ব্যাট করছেন। ২০২৫ সালের আইপিএলে ১৫ ম্যাচে ২২৪ রান করেছিলেন তিনি, স্ট্রাইক রেট ছিল ১৬৩.৫০।
যদিও এই রানগুলোর বেশিরভাগই এসেছে পাঁচ নম্বর পজিশন থেকে, যেখানে তার ভূমিকা ছিল ইনিংস গড়া, ফিনিশ করা নয়। নামান ধীর ও উইল জ্যাকসকে ফিনিশারের ভূমিকায় খেলিয়ে দেখেছিল মুম্বাই, সফল হয়নি। তাই এবার নিলামে তারা হয়তো হার্দিককে পাঁচ নম্বরে রেখে তার নিচে ভাল ফিনিশার খুঁজবে, যিনি শেষ ওভারগুলোতে ম্যাচ নিজের করে নিতে পারেন।
পেস আক্রমণেও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। জসপ্রিত বুমরা ও ট্রেন্ট বোল্ট মুম্বাইয়ের দুই ভরসা হলেও, তাদের সঙ্গ দেওয়ার মতো তৃতীয় পেসার এখনো নেই। দলে থাকা দীপক চাহার ২০২৫ মৌসুমে ১৪ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন, কিন্তু ইকোনমি রেট ছিল ৯.১৭।
পাওয়ারপ্লেতে উইকেট তোলায় ব্যর্থ হওয়ায় বুমরা ও বোল্টের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। তাই নিলামে মুম্বাইয়ের টার্গেট হতে পারে এমন একজন পেসার, যিনি শুরুতেই ব্রেকথ্রু এনে দিতে পারেন এবং ইনিংসের শেষ দিকেও কার্যকর হবেন।

সব মিলিয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সামনে তিনটি স্পষ্ট কাজ রয়েছে—রিকেলটনকে রেখে একজন অতিরিক্ত ওপেনার নেওয়া, হার্দিকের সঙ্গে এক্সপ্লোসিভ ফিনিশার যোগ করা, এবং বুমরাহ–বোল্ট জুটিকে সমর্থন দিতে নির্ভরযোগ্য তৃতীয় পেসার খুঁজে আনা। এই তিন জায়গায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলেই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আবারও শিরোপার দৌড়ে অন্যতম ফেভারিট হয়ে উঠতে পারে।









