বাংলাদেশের নেই এখন আর কোন ‘চুম্বক’ চরিত্র

গলা ফাটানোর জন্য তো কেউ একজন থাকা চাই, শত হতাশা শেষেও যিনি এক রত্তি স্বস্তি জোগাবেন, বিনোদনের উৎস হবেন ক্লান্ত মস্তিষ্কের। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এমন এক চরিত্র ফের কবে দেখা যাবে?

একদিকে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে স্টেডিয়াম দর্শকে টইটুম্বুর। আরেকদিকে আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচে গ্যালারিতে শূন্যতা। দিল্লির একই মাঠের এই বৈপরীত্য কিছুদিন আগে ভারতের ক্রিকেট মহলে ছিল বেশ আলোড়িত দৃশ্য। রঞ্জির ম্যাচে দর্শকের ঢল ছিল বিরাট কোহলি খেলবেন বলে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে শূন্যতা ছিল বিরাটের মত চরিত্র নেই বলে। বিরাটের মত বৃহৎ চরিত্র দর্শকদের চম্বুকের মত স্টেডিয়ামে আকর্ষিত করেছেন। গোটা দুনিয়াতেই এই চিত্র ধ্রুব।

লাহোর গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শাহিবজাদা ফারহানদের উইকেট পতনে উচ্ছ্বাস হয়। কারণ বাবর আজম ব্যাট হাতে নামবেন বলে। এই তো ক’দিন আগে অস্ট্রেলিয়ার স্টেডিয়াম রীতিমত ফেটে পড়ল দর্শকদের চাপে। কারণ, বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা খেলতে নামবেন বলে। আর এদিক থেকেই যেন পিছিয় পড়ছে বাংলাদেশ।

এই যেন দর্শক জনপ্রিয়তা এগুলো তিলে তিলে গড়েছেন বিরাট, বাবর, রোহিতরা। দিনের পর দিন তারা পারফরম করেছেন, দলের জয়ের অবদান রেখেছেন। দর্শকদের বিনোদনের জোগান দিয়েছেন। দর্শক চাহিদা মেটাতে পারতেন বলেই, ভারতের মাটিতেও ক্রিস গেইল, এবি ডি ভিলিয়ার্সদের সমর্থনও কম নয়। তাদের বেলাতেও গ্যালারিতে শূন্যতা অন্তত থাকত না।

অতএব দর্শক জনপ্রিয়তার উপর নির্ভর করেই খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ নয় এখানে আলোচ্য। বরং দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করা মোটেও সহজ কাজ নয়। পারফরম করতে হয়, প্রত্যাশা পূরণ করতে হয়। হতাশ জীবনে একটু রঙের ছটা জুড়ে দিতে হয়। কেবল তবেই দর্শকরা সেই খেলোয়াড়ের জন্য জীবন বাজি রাখতেও পিছপা হন না।

একটা সময় বাংলাদেশের ঘরের মাঠ থাকত কানায়-কানায় পূর্ণ। কারণ তখন সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের মত চরিত্ররা মাঠে নামত। স্রেফ তাদের খেলা দেখবেন বলেই, দলে দলে দর্শকরা স্টেডিয়াম পাড়ায় ভীড় জমাতেন। কিন্তু সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটাই বরং আরও একটিবার উপলব্ধি করাল, বাংলাদেশের ক্রিকেটে ইউনিক চরিত্রের ঠিক কতটা অভাব।

যেই স্টেডিয়াম পাড়ায়, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিমকে নিয়েও স্লোগান হতো- তপ্ত রোদ, ভীড়ের অস্থিরতা সবকিছুই অগ্রাহ্য করে মিরপুরে দর্শকদের উচ্ছ্বাসের প্রবল স্রোত বয়ে যেত। কিন্তু এখন সেই দৃশ্যপট পালটে গেছে। দর্শকরা মাঠে এসে এখন আর একই কোরাসে কোন খেলোয়াড়ের নামে স্লোগান দেননা। বরং দুয়োধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় স্টেডিয়ামের আকাশ-বাতাস।

দর্শকদের এখন আর স্টেডিয়াম টানে না। চুম্বক হওয়ার মত সেই চরিত্র তো এখন আর নেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের। কেউ আর পারফরমেন্স আর ব্যক্তিত্ব গুণে দর্শক হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারছেন না।

গলা ফাটানোর জন্য তো কেউ একজন থাকা চাই, শত হতাশা শেষেও যিনি এক রত্তি স্বস্তি জোগাবেন, বিনোদনের উৎস হবেন ক্লান্ত মস্তিষ্কের। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এমন এক চরিত্র ফের কবে দেখা যাবে? কবে আবার, সাকিব-তামিমদের মতই জয়োধ্বনিতে মুখোরিত হবে স্টেডিয়াম?

Share via
Copy link