শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই শেষে বাংলাদেশের জয়। হারতে হারতেই একপ্রকার জিতে গেল টাইগাররা। শেষটাতে লড়াই করেও নতি স্বীকার করতে হলো পাকিস্তানের।
এক ম্যাচে হাতে রেখেই সিরিজ বাগিয়ে নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। তবে টস ভাগ্য সহায় হলো না। পাকিস্তান ক্যাপ্টেনের আমন্ত্রণে এদিন ইনিংস সূচনা করতে আসেন পারভেজ হোসেন ইমন এবং নাইম শেখ।
তানজিদ তামিমের পরিবর্তে একাদশে নাইম ফিরলেও সুযোগটা তিনি কাজে লাগাতে পারেননি। দ্বিতীয় ওভারে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসে দলকে শুরুতেই চাপে ফেলেন। আগের ম্যাচের মতো ব্যর্থ হলেন লিটনও, রান আউটে কাটা পড়ে শূন্য রানেই ফিরতে হয় তাওহীদ হৃদয়কে। গত ম্যাচের নায়ক ইমনও ফিরে যান দলীয় ২৮ রানের মাথায়। চার উইকেট হারিয়ে তখন নাজেহাল অবস্থা বাংলাদেশের।

হাল ধরেন জাকের আলী আর শেখ মেহেদী। দু’জনের ব্যাটে গড়ে উঠে ৪৯ বলে ৫৩ রানের জুটি। ২৫ বলে ৩৩ রানের ইনিংস খেলে মেহেদী সাজঘরে ফেরেন, ব্যর্থ হন শামীম পাটোয়ারিও। আবারও একটা আশঙ্কার মেঘ গর্জে ওঠে। তবুও একপ্রান্তে অবিচল থাকে জাকেরের লড়াই। পাকিস্তানের বোলিংয়ের বিপক্ষে ঢাল হয়ে দাঁড়ান। তাঁর ৫৫ রানের ইনিংসে ভর করে লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শরিফুল-সাকিবদের বোলিংয়ের সামনে সুবিধা করতে পারেনি সফরকারীরা। ১৫ রানের মাথায় ফিরে যায় তাদের পাঁচ ব্যাটার। ১৩৩ রানের টার্গেটটা হয়ে দাঁড়ায় পাহাড়সম। মাঝের সময়টাতেও উইকেট নিয়মিত পড়তে থাকে পাকিস্তানের। তবে ছাইচাপা আগুন জ্বলে উঠে ফাহিম আশরাফের ব্যাটে, বাংলাদেশি বোলারদের বিপক্ষে শুরু করেন প্রতিআক্রমণ।
জিততে হলে শেষ দুই ওভারে দরকার ২৮ রান। ব্যাট হাতে ফাহিম যেন বাংলাদেশের গলার কাঁটা। লিটন দাস বল তুলে দেন রিশাদের হাতে। আর বিপত্তিটা বাধে তখনই।

১৯তম ওভারের প্রথম পাঁচ বলে ১৫ রান দিয়ে বসেন রিশাদ। পাকিস্তান যেন অবিশ্বাস্যের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এক রূপকথা লেখার দ্বারপ্রান্তে। তবে শেষ বলটাতে বোল্ড হয়ে যান ফাহিম, জিততে হলে পাকিস্তানের সমীকরণ দাঁড়ায় ৬ বলে ১৩ রান, হাতে মাত্র ১ উইকেট। মুস্তাফিজের প্রথম বলটাতে চার মেরে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন আহমেদ দানিয়াল। তবে ঠিক পরের বলে ছয় হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়লে স্বপ্নভঙ্গ হয় পাকিস্তানের।
টানটান উত্তেজনার ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পায় আট রানে। সেই সাথে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বধের গল্প লেখে লিটনের দল। এখন লক্ষ্যটা হোয়াইটওয়াশ করে ষোলকলা পূর্ণ করার।











