এশিয়া কাপের ফাইনাল জিতিয়ে ভারতের নায়ক বনে গেছেন তিলক ভার্মা। স্বপ্ন দেখাচ্ছেন বড় নাম হওয়ার। অনেকে তাঁর মাঝে দেখছেন কিংবদন্তি যুবরাজ সিংয়ের ছায়া। চলুন দেখে নেওয়া যাক, ক্যারিয়ারের শুরুর ৩২ ম্যাচের পরিসংখ্যানে তিলক নাকি যুবরাজ তুলনায় কে সেরা?
৩২ ম্যাচ শেষে তিলক ভার্মার রান ৯৬২, গড় ৫৩.৪৪। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ছয় ম্যাচেই তার সংগ্রহ ৩০৯ রান, গড় ৭৭.২৫। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচে করেছেন ১৩০ রান, যার মধ্যে দুইবার অপরাজিত ছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচে ৪৪.৩৩ গড়ে করেছেন ১৩৩ রান করে । অন্যদিকে, একই সংখ্যক ম্যাচ শেষে যুবরাজের রান ছিল ৭১৯, গড় ২৮.৭৬। তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করেছিলেন ১১০ রান এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১১৭ রান।
স্ট্রাইক রেটের বিচারেও তিলকই এগিয়ে। ৩২ ম্যাচ শেষে তার স্ট্রাইক রেট ১৪৯.১৪। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে স্ট্রাইক রেট ছিল প্রায় ১৯১, বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ইনিংসে প্রায় ১৮২। অন্যদিকে যুবরাজের স্ট্রাইক রেট ছিল ১৪৪.৯৫, যদিও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার ইনিংসে মিলিয়ে যা ছিল ২২৯.৪১।

পঞ্চাশোর্ধ ইনিংসের সংখ্যায়ও এগিয়ে আছেন তিলক। ৩২ ম্যাচ শেষে তার সংগ্রহ ছয়টি পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস, যার মধ্যে রয়েছে দুটি সেঞ্চুরি। ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টানা দুটি শতক করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। যুবরাজের ছিল পাঁচটি হাফ-সেঞ্চুরি, যার সেরা ইনিংস ২০০৭ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩০ বলে ৭০ রান।
জেতা ম্যাচে অবদান রাখার দিক থেকেও তিলক অনেকটা এগিয়ে। ভারতের জেতা ২৩ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৬৯৮ রান, গড় ৫৮.১৬ এবং স্ট্রাইক রেট ১৫৪.৪২। সেখানে যুবরাজের জেতা ১৬ ম্যাচে রান ছিল ৪৭৭, গড় ৪৭.৭০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৬১.৬৯।
সব মিলিয়ে, ৩২ ম্যাচ শেষে তুলনাটা স্পষ্ট। তিলক ভার্মা রান, গড় এবং ইনিংসের ধারাবাহিকতায় যুবরাজ সিংয়ের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে। তবে যুবরাজ ছিলেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের শুরুর যুগের নায়ক, যিনি বড় ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন। আর তিলকের সামনে এখনো লম্বা পথ পড়ে আছে। সময়ই বলে দেবে, তিনি শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে কোন জায়গা দখল করবেন।












