বাতাসের ব্যাটের প্রহার। এরপরই হেলমেট খুলে সিজদাহতে সৃষ্টিকর্তাকে কৃতজ্ঞতা জানালেন তাওহীদ হৃদয়। সেঞ্চুরির দরজায় দুই ম্যাচ আগেই কড়া নেড়েছিলেন তিনি। সেবার ৯৭ রানে অপরাজিত থেকে তাকে ছাড়তে হয়েছিল বাইশ গজ। কিন্তু নোয়াখালীর বিপক্ষে মঞ্চটা কাজে লাগালেন দারুণভাবে। দায়িত্ববোধ আর আগ্রাসনের মিশেলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক তুলে নিলেন তাওহীদ হৃদয়।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) চতুর্থ বাংলাদেশী হিসেবে একাধিক সেঞ্চুরির অনন্য ক্লাবে প্রবেশ করলেন ডানহাতি এই ব্যাটার। একই দিনে মিরপুরের কলুষিত উইকেটে দুই সেঞ্চুরির আনন্দে ভাসলেন দুই দলের দুই ভিন্ন ব্যাটার। তবে শেষ অবধি সেঞ্চুরির হাসিকে জয়ের হাসিতে রুপান্তরিত করতে পেরেছেন স্রেফ তাওহীদ হৃদয়।
সর্বশেষ তিন ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন হৃদয়। আর এই তিন ইনিংসের একটি সেঞ্চুরি, আরেকটি অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস খেলেছেন। জাতীয় দলের ওপেনারদের যেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন হৃদয়। তবে বিপিএলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের তালিকায় সবার উপরে থাকা হৃদয় চ্যালেঞ্জের চাইতেও স্বস্তির সুবাতাস ছড়াচ্ছেন টাইগার শিবিরে।

নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ১৭৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা টপকাতে হলে, শুরুতেই ভরকে দিতে হতো তাদের বোলিং আক্রমণকে। সেই ভরকে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েই যেন মাঠে নেমেছিলেন হৃদয়। ১৫ খানা চার ও দুই খানা ছক্কায় সাজিয়েছিলেন তিনি নিজের ১০৯ রানের ইনিংসটি। ১৭৩ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটি খেলে তিনি যতক্ষণে আউট হয়েছেন, ততক্ষণে জয় চলে এসেছিল রংপুর রাইডার্সের হাতের মুঠোয়।
আর হৃদয় বসে গেছেন সিংহাসনে। ৩৭৮ রান নিয়ে তিনি এবারের বিপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। অথচ বিপিএল শুরুর আগেই তাকে নিয়ে ছিল সন্দেহ। ব্যাডপ্যাচের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। ব্যাটে ছিল না ধারাবাহিকতা। সেই হৃদয়ই তিনটি ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন এবারের বিপিএলে।
৪২ গড়ে, ১৩৯.৪৮ স্ট্রাইকরেটে রান তুলে যাচ্ছেন বিপিএলের মঞ্চে। রানের এই ধারা তার আত্মবিশ্বাসের পারদকে বেশ উপরের দিকেই ঠেলে দেবে। সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিরুপ তিনি ফুটিয়ে তুলবেন বিশ্বকাপের মঞ্চে, সে প্রত্যাশা এখন তাই করাই যেতে পারে। দলের বোঝা নয়, অন্যতম আস্থার হয়ে তিনি পৌছাবেন বিশ্বকাপের ভেন্যুতে।












