অভিনব এক বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল ট্রান্সফার মার্কেট.কম। ফুটবল দলবদলের খবর প্রচারকারী এই প্রতিষ্ঠানটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক এই আয়োজনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। সেটাও আবার ফাইনালে খোদ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে।
না, মাঠের ফুটবলে নেমে যেতে হয়নি বাংলাদেশকে। স্যোশাল মিডিয়ায় ফলোয়ারদের রিয়্যাকশনের ওপর ভিত্তি করে এই টুর্নামেন্টের বিজয়ী নির্ধারিত হয়। আর সেই লড়াই শেষে ট্রান্সফার মার্কেট ফেসবুক ফলোয়ার কাপের চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ।
বোঝা গেল, বাংলাদেশে খেলাধুলা বিশেষ করে ফুটবলের বিরাট একটা বাজার আছে। সেই বাজারটা কাজে লাগানো গেলে এটা দেশের ফুটবলের চেহারা পাল্টে দিতে পারে। বিশ্বের বড় বড় দলের চেয়ে বাংলাদেশ ফুটবলের ফ্যান-ফলোয়ার বেশি।

শেষ ষোলর লড়াইয়ে বাংলাদেশের চার লাখ ৮১ হাজার রিয়্যাকশনের বিপরীতে ব্রাজিলের রিয়্যাকশন ছিল মাত্র ২১ হাজার। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি লড়াই হয় ভিয়েতনামের সাথে, কোয়ার্টার ফাইনালে। সেখানে শুরু থেকেই বাংলাদেশকে চাপে রাখে। লড়াই জমে ওঠে যখন, ভিয়েতনামের গণমাধ্যমগুলোও সেখানে যোগ দেয়।
একটা সময়, ভিয়েতনাম বেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশের চেয়ে। এমনকি বট ফলোয়ারও ব্যবহার করার অভিযোগ আছে ভিয়েতনামের বিপক্ষে। কিন্তু, তাতে লাভ হয়নি। বরং, বাংলাদেশের কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফেসবুক পেজগুলো সামিল হলে বদলে যায় দৃশ্যপট। বাংলাদেশের এক মিলিয়ন রিয়্যাকশনের বিপরীতে ছয় লাখ ৭৯ হাজার রিয়্যাকশন নিয়ে ছিটকে যায় ভিয়েতনাম।
সেমিফাইনাল আর ফাইনালে তেমন কোনো লড়াই হয়নি। সেমিফাইনালে বাংলাদেশের পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার রিয়্যাকশনের বিপরীতে তিউনিশিয়া পেয়েছে মাত্র ৩১ হাজার রিয়্যাকশন। ফাইনালও ছিল এক তরফা। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এক মিলিয়ন রিয়্যাকশন পায় বাংলাদেশ, মেসি-আলভারেজের দল পায় মাত্র ২১ হাজার রিয়্যাকশন।

মজার ব্যাপার হল, আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পেছনেও সবচেয়ে বড় অবদান বাংলাদেশিদেরই। সেই সুবিধা ব্রাজিলও পেত হয়তো। কিন্তু, শেষ ষোলতে গিয়েই ব্রাজিলের মোকাবেলা হয় বাংলাদেশের সাথে।










