একাদশে দুই বদল

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ইতিমধ্যে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের লক্ষ্য পূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করা আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাঠে নামছে হোয়াটওয়াশ এড়িয়ে অন্তত ওয়ানডে সুপার লিগের ১০ পয়েন্ট অর্জন করা।

তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আজ  মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জহুর আহম্মেদ চৌধুরি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হবে ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজে প্রথম বারের মতো আগে ব্যাট করবে বাংলাদেশ।

প্রথম দুই ম্যাচ অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে খেললেও শেষ ম্যাচে দুই পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। পেসার রুবেল হোসেন ও হাসান মাহমুদের পরিবর্তে একাদশে জায়গা পেয়েছেন অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন ও তাসকিন আহম্মেদ। অন্যদিকে এই ম্যাচেও দুইটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামবে ওয়েস্ট ইন্ডিজে। ম্যাকার্থি ও জেসুয়া ডি সিলভার পরিবর্তে একাদশে ফিরেছেন জাহমার হ্যামিল্টন ও কিওন হার্ডিং।

মিরপুরে প্রথম দুই ম্যাচের উইকেট স্যাঁতস্যাঁতে স্পিন সহায়ক ছিলো। আর চট্টগ্রামের উইকেট সাধারণতো ব্যাটসম্যানদের পক্ষেই কথা বলে। আগের দুই ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে সেরা পারফর্মার ছিলেন সাকিব আল হাসান। দুই ম্যাচে বল হাতে ৬ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেছেন ৬২ রান। আজকের ম্যাচেও সফরকারীদের পথের কাটা হয়ে থাকবেন সাকিব।

গত দুই ম্যাচে মন্থর উইকেটেও দারুণ ব্যাট করেছেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। দুই ম্যাচে তামিমের ব্যাট থেকে এসেছে ৯৪ রান। আজকেও উড়ন্ত সূচনা পেতে তামিমের দিকেই তাকিয়ে থাকবে দল। গত দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ আরেক ওপেনার লিটন দাসও মরিয়া থাকবেন আজকের ম্যাচে রান পেতে। এছাড়াও ব্যাটিং উইকেটে উইকেটে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সাথে সৌম্য সরকারের ব্যাট ঠিক করে দিতে পারে ম্যাচের গতিপথ।

সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে শুরুতেই ব্যাটিং  বিপর্যয়ে পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর ধংসযজ্ঞের শুরু হয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানের হাত ধরে। দুই ম্যাচে ৪ উইকেট নেওয়া মোস্তাফিজ ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন আজও। এছাড়া গত ম্যাচের ম্যাচ সেরা মিরাজের সাথে সাথে সিরিজে প্রথম সুযোগ পাওয়া তাসকিন আহম্মেদ ও মোহাম্মাদ সাইফউদ্দিনও চাইবেন সুযোগ কাজে লাগাতে।

আগের দুই ম্যাচেই ব্যাট হাতে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানরা।  দুই ম্যাচে সর্বোচ্চ ৬৯ রান এসেছে অভিজ্ঞ রোভম্যান পাওয়েলের ব্যাট থেকে। প্রথম ম্যাচে কাইল মেয়ার্সের ৪০ রান ছাড়া বলার মতো ইনিংস খেলতে পারেননি আর কেউ। তবে ব্যাটিং উইকেটে এই দুজনের সাথে স্বাগতিক বোলারদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন সুনীল অ্যামব্রোস, জেসন মোহাম্মাদ ও কেজর্ন ওটলেরা।

আগের দুই ম্যাচে বাংলাদেশের পতন হওয়া ৭ উইকেটের ৬ টি শিকার করেছিলেন আকিল হোসেন ও জেসন মোহাম্মাদ। এই দুজনের সাথে  গতির পসরা সাজিয়ে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের পরিক্ষা নিতে পারেন আলজেরি জোসেফ ও চিমার হোল্ডার।

দুই দলের একাদশ:

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন কুমার দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সৌম্য সরকার, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মাদ সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহম্মেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ:  জাহমার হ্যামিল্টন, সুনীল অ্যামব্রিস, জেসন মোহাম্মদ (অধিনায়ক), রেমন রেইফার, রভম্যান পাওয়েল, কাইল মায়ার্স, এনক্রুমাহ বনার,আকিল হোসেন, আলজারি জোসেফ ও কেজর্ন ওটলে। কিওন হার্ডিং।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link