বুনো গর্জনে সেঞ্চুরি উদযাপন, আসরে দ্বিতীয়বারের মতো তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে দেখলেন শাহিবজাদা ফারহান। তিনি যে পাকিস্তানের ওয়ানম্যান আর্মি। পুরো টুর্নামেন্টে প্রায় একা হাতে টপ অর্ডার সামলেছেন। বাকীদের ব্যর্থতা ঢাকা পড়েছে তাঁর বীরত্বে। বাঁচা-মরার ম্যাচেও নিজের সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে দিলেন। সেই সাথে টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক সংস্করণে সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়ে ইতিহাস গড়লেন।
সেমিফাইনালে যেতে হলে আগে ব্যাট করে অন্তত ৬৪ রানের ব্যাবধানে জিততে হবে। এমন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে শুরুটা করা দরকার ছিল আগ্রাসী মেজাজে। সেটাই করল পাকিস্তান যার রূপকার শাহিবজাদা ফারহান।
উইকেটে এসে সেট হওয়ার সময় নেই। ব্যাট চালাতে হবে প্রথম বল থেকে। দায়িত্ব নিয়ে খেললেন, পাওয়ার প্লেতেই ব্যক্তিগত খাতায় তুলে নিলেন ৪০ রান। তবে কাজটা তখনও শেষ হয়নি যে। দলের সবচেয়ে বড় ভরসা যে তিনি। দলকে বাঁচাতে হলে যে গুরুদায়িত্ব তাঁকেই নিতে হবে।

ফখর জামানকে সাথে নিয়ে দায়িত্বটা পালন করলেন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে। আরও একবার ফিফটির দেখা পেলেন ফারহান, ওপেনিং জুটিতেই এলো ১৭৬ রান। ফখর ফিরে গেলেও শেষ কাজটা করার জন্য ক্রিজে থেকে গেলেন। এরপর অগ্রসর হলেন আরও এক সেঞ্চুরি আদায়ের লক্ষ্যে।
লক্ষ্য পূরণ, ব্যাট নামক তরবারিটা দ্বিতীয় বারের মতো উঁচিয়ে ধরলেন ফারহান। নামাবিয়ার বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচেও শতক ছুঁয়েছিলেন, এবার আরও এক বাঁচা মরার ম্যাচে আরও একবার শতক হাঁকালেন। সময়টা যে নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন ফারহান, দলের বিপদে কান্ডারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন প্রতিবার।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্তই আগলে রেখেছিলেন একপ্রান্ত। ২০ তম ওভারে এসে থামতে হয়েছে কাটায় কাটায় ১০০ রানে। তবে এখানেই শেষ না, এই ম্যাচে ফারহান ইতিহাসও লিখেছেন নিজের হাতে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে সবচেয়ে বেশি রান যে এখন তাঁর দখলে। ২০১৪ সালে বিরাট কোহলির গড়া ৩১৯ রানের কীর্তি ছাপিয়ে গেছেন ২০২৬-এ এসে। যেন মঞ্চটা ফারহানের জন্যই প্রস্তুত ছিল, তিনি এসে স্রেফ পারফর্ম করে গেছেন।










