সময় পাল্টায়, পরিস্থিতি বদলায় তবে অক্ষর প্যাটেল একই রয়ে যায়। ধারাবাহিকতা, স্থিরতা আর পারফরম্যান্সের মিশেলে ভারতীয় দলে তিনি এক ধ্রুব নাম। দুবাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেটাই প্রমাণ করলেন আরও একবার।
শুরুতেই ভারতীয় বোলারদের চাপে যখন কোনঠাসা পাকিস্তান, তখনই দলের হাল ধরেন ফখর জামান এবং শাহিবজাদা ফারহান। ছয় রানে দুই উইকেট হারিয়ে ফেলার পর তাঁদের দুজনের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জেগে ওঠে। ঠিক তখনই আঘাত হানলেন অক্ষর, ৩৯ রানের জুটি ভেঙে ফখরকে সাজঘরের পথ দেখান।
এখানেই শেষ নয়, উইকেটে এসে কিছু বুঝে ওঠার আগেই সালমান আলী আঘাকে ফিরিয়ে মুহূর্তেই ম্যাচের মোমেন্টাম আবার নিয়ে আসেন ভারতের দিকে। শেষপর্যন্ত চার ওভার হাত ঘুরিয়ে ১৮ রান দিয়ে শিকার করেছেন দুই উইকেট। ইকোনমি ছিল ৪.৫। খুব বেশি আহামরি কিছু মনে না হলেও একজন বোলার ম্যাচের পর ম্যাচ এমন পারফরম্যান্স করলে সেটা বিশেষ কিছু।

খুব বেশি ভ্যারিয়েশন নেই তাঁর বলে তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তোলায় অধিনায়কের ভরসার নাম তিনি। ম্যাচের যেকোনো সময় ম্যাজিক্যাল একটা ডেলিভারিতে মোমেন্টাম নিজেদের দিকে আনতে তাঁর জুড়ি নেই।
২০২৪ সালের বিশ্বকাপের পর ভারতের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এসেছে আমূল পরিবর্তন। এখন তরুণদের নিয়ে ভারত দল আরও বেশি আক্রমণাত্মক, আরও বেশি ভয়ংকর। সে সময়ের পরিকল্পনায় জুড়ে ছিলেন অক্ষর। হয়ে উঠেছিলেন দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বর্তমান সময়েও রোলটা একই আছে তাঁর। এখনও দলের মহাগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় তিনি। কখনও ব্যাট হাতে মিডল অর্ডারের দায়িত্ব কাঁধে, কখনও ফিনিশারের ভূমিকায় আবার কখনও বল হাতে দলের ত্রাতা। প্রশ্নটা আসতেই পারে—অক্ষর আসলে নেই কোথায়?

জায়গাটা পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন অক্ষর। পায়ের তলার মাটি পারফরম্যান্স দিয়ে এতটাই শক্তিশালী করেছেন যা টলানোটা একপ্রকার কষ্টসাধ্য বটে। শুধু তাই নয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন বিধায় তাঁর জায়গাটা ফিক্সড।
বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য দেখানো ভারতের পেছনে যে অটল ভরসা হয়ে আছেন এই অক্ষর প্যাটেলরা। তাই তো সময়ের পরিক্রমায় অনেক কিছু বদলে যায়, পাল্টে যায়—শুধু ধ্রুব হয়ে থেকে যায় অক্ষর প্যাটেলরাই।











