শুরুর আগেই শেষ হতে বসেছে উসমান খানের ক্যারিয়ার। পাকিস্তান দলের কোনো শিরোনামে জায়গা মিলছে না তাঁর, নেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে।
আরব আমিরাত ক্রিকেটকে বিদায় বলার পর নতুন আশা নিয়েই পাকিস্তানে পাড়ি জমান তিনি। তবে পারফরম্যান্সে ভাটা পড়ায় ধীরে ধীরে ব্যর্থতার পাল্লা ভারি হতে থাকে।
উসমান ২০১৭ সালে করাচির হয়ে ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ দিয়েই বড় মঞ্চের যাত্রা শুরু করেন। তবে নিজেকে ঠিকঠাক মেলে ধরতে পারেননি। তাই তো ভালো সুযোগের আশায় উসমান খান পাড়ি জমান আরব আমিরাতে। পাকিস্তানি পাসপোর্ট পকেটে পুরে আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টিতে খেলেছেন স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে।

পাকিস্তান সুপার লিগে আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে পিএসএল খেলতে এসেই মূলত পাকিস্তানে ফেরার স্বপ্ন দেখা শুরু করেন।২০২৪ পিএসএলে মুলতান সুলতানসের হয়ে খেলে আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। পাকিস্তান বোর্ড তাকে নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করে, উসমান স্বপ্ন দেখেন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠে নামবেন।
সে বছরে পিএসএল শেষের পর আমিরাতে না ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। যোগ দেন পাকিস্তানের ক্যাম্পে। তবে আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ড অবশ্য সহজে তা মেনে নেয়নি। তাঁকে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয়। পাকিস্তানের জার্সিতে শুরু করেন নতুন অধ্যায়।
তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল আসেনি। পাকিস্তানের হয়ে উসমান ১৯ টি-টোয়েন্টি খেলে করেছেন ২৩৯ রান, গড় ১৪.৯৩। ওয়ানডেতে দুই ম্যাচে রান করেছেন মাত্র ৫১ রান। জাতীয় দল কিংবা পিএসএল কোনোটাতেই নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ফলে আস্থা হারায় বোর্ড। গতবার সেন্ট্রাল কন্ট্রাক্টে ক্যাটাগরি ডি তে থাকলেও এবার সেখানেও নাম নেই। পাকিস্তান শাহীনসের মতো জুনিয়র দলেও সুযোগ মিলছে না তাঁর।

উসমান হয়তো আমিরাতে না ফিরে ভুলই করেছেন। পাকিস্তান দলে বরাবরই প্রতিযোগিতাটা একটু বেশিই হয়। তাই তো টিকে থাকতে গেলে চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয় সমান তালে।
আরব আমিরাতে থাকলে হয়তো বড় নাম হতেন দলের। খেলতে পারতেন এবারের এশিয়া কাপেও। তবে এখন সে সুযোগটাও আর নেই। আমিরাত বোর্ডের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৯ সালে। তাই তো আপাতত হুমকির মুখে উসমানের ক্রিকেট ক্যারিয়ার।











