বয়সটা মাত্র ১৫, কিন্তু ২২ গজের ক্রিজে নামলে তিনি যেন এক রুদ্রমূর্তি। রাজস্থান রয়্যালসের এই তরুণ তুর্কি, বৈভব সুরিয়াভানশি এবারের আসরে নিজের শুরুর ম্যাচেই বুঝিয়ে দিলেন কেন তাকে আগামীর মহাতারকা বলা হচ্ছে। সোমবার চেন্নাই সুপার কিংসের বোলারদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে এক অবিস্মরণীয় জয় উপহার দিলেন তার দলকে।
গত ২৭ মার্চ ১৫ বছরে পা দিয়েছেন বৈভব। দলের সবার সাথে ধুমধাম করে কেক কাটার আয়োজন থাকলেও এই কিশোর ব্যাটার বেছে নিয়েছিলেন এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। জন্মদিন উদযাপনের সেই চেনা কেক মাখামাখির উৎসব এড়িয়ে তিনি দ্রুত ঘুমাতে চলে গিয়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল একটাই – পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে নিজেকে শতভাগ সতেজ রাখা। ম্যাচের পর তিনি নিজেই জানালেন, দলের উৎসবের চেয়েও মাঠের লড়াইটাই তার কাছে ছিল বড় পাওনা।
চেন্নাইয়ের বোলাররা যখন ১২৭ রানের এক মামুলি পুঁজি নিয়ে লড়াইয়ের স্বপ্ন দেখছিল, তখন সেই স্বপ্নকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন বৈভব। চারটি নান্দনিক চার আর পাঁচটি আকাশচুম্বী ছক্কায় তিনি সাজালেন তার ৫২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। যেন এক কিশোরের ব্যাটে লেখা হলো অভিজ্ঞতার পরাজয়।

ম্যাচ শেষে নিজের ব্যাটিংয়ের ধরণ নিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা ছিল স্রেফ পাওয়ারপ্লেকে কাজে লাগানো। আমি ডিফেন্সের কথা ভাবি, তবে আজকের পরিকল্পনা ছিল পাওয়ারপ্লেতেই খেলা নিয়ন্ত্রণ করা। কারণ ছোট লক্ষ্য তাড়া করার সময় এই ধাপটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি বোলিং দল সেখানে ভালো করে, তবে খেলা তাদের দিকে ঘুরে যেতে পারে।’
মাঠে ওপেনিং পার্টনার হিসেবে তিনি পাশে পেয়েছিলেন আরেক ভারতীয় প্রতিভা যশস্বী জয়সওয়ালকে। অভিজ্ঞ জয়সওয়াল তাকে প্রতি বলে সাহস যুগিয়েছেন, কখন সিঙ্গেল নিতে হবে আর কখন আক্রমণ করতে হবে। মূলত এই বোঝাপড়াই বৈভবকে নির্ভীক ব্যাটিং করার রসদ জুগিয়েছে।
পনেরো বছরের এই কিশোরের কাছে জীবনের ব্যাকরণটা আসলে বড়ই অদ্ভুত। এই বয়সে যখন জন্মদিনের মোমবাতি নেভানোর স্বপ্নে বিভোর থাকার কথা, বৈভব তখন জাল বুনছিলেন বিপক্ষ শিবিরের দর্প চূর্ণ করার। ড্রেসিংরুমের সেই কৃত্রিম আলোর উৎসবের চেয়ে মাঠের সবুজ গালিচাই ছিল তার কাছে পরম তীর্থস্থান।












