তের চৌদ্দ বছরের মতো এমন বালাই আর নেই। বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৫ বছর বয়সে সেই বালাই আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে!
ভয়ঙ্কর সেই বালাইয়ের নাম বৈভব সুরিয়াভানশি। যে বয়সে অধিকাংশ কিশোরের দিন কাটে স্কুল, বন্ধু আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে, সেই বয়সেই সুরিয়াভানশি ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি আসর আইপিএলে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন। জাতীয় দলে নাম লেখানো, তাঁর জন্য এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার।
আইপিএলে এটি ছিল তার মাত্র দ্বিতীয় মৌসুম, আর প্রথম পূর্ণাঙ্গ অভিযানেই এমন এক কীর্তি গড়েছেন, যা অনেক তারকা ক্রিকেটারও পুরো ক্যারিয়ারে স্পর্শ করতে পারেন না।

পুরো মৌসুম জুড়ে ব্যাট হাতে ছিলেন দুর্দান্ত। রান করেছেন ধারাবাহিকভাবে, ছক্কা মেরেছেন অবলীলায়, আর প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছেন চড়াও ভাবে।
শেষ পর্যন্ত একের পর এক ব্যক্তিগত স্বীকৃতি চলে এসেছে তার ঝুলিতে। মৌসুমের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের অরেঞ্জ ক্যাপ, সর্বাধিক ছক্কার পুরস্কার, সেরা ইমার্জিং প্লেয়ার, এবং ২৩৭ স্ট্রাইক রেট নিয়ে ‘সুপার স্ট্রাইকার অব দ্য সিজন’-এর স্বীকৃতি,সবই জিতেছেন এই কিশোর।
এই আসরে কমপক্ষে ৫০০ রান করেছেন, এমন ব্যাটারদের মধ্যে কেবল আর একজনের স্ট্রাইক রেটই কেবল ২০০’র ওপরে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এটি ছিল তার প্রথম পূর্ণাঙ্গ আইপিএল মৌসুম।

অথচ মাঠে তাঁর ব্যাটিং দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে তিনি বয়সে এখনও কিশোর। বরং মনে হয়েছে, তিনি যেন বহু বছর ধরে এই মঞ্চের আলো-ঝলমলে চাপের সঙ্গে পরিচিত। বড় বড় নামের ভিড়ে বৈভবই হয়ে উঠেছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
বয়সটা হয়তো মাত্র ১৫, কিন্তু তার কীর্তি ইতোমধ্যেই বলে দিচ্ছে—এটা শুধু একজন প্রতিভাবান কিশোরের গল্প নয়, বরং ভবিষ্যতের এক বড় তারকার আগমনী বার্তা। বৈভব সুরিয়াভানশির নামটা তাই ক্রিকেট বিশ্ব মনে রাখতে বাধ্য।










