কমলা জার্সি তাতিয়ে তোলে ভেঙ্কেটেশকে

কমলা জার্সিটা যেন ভেঙ্কেটেশ আইয়ারের ভীষণ পছন্দের। আগুনের ওই বর্ণিল আভা ভেঙ্কেটেশের চোখে-মুখে আক্রোশের তেজ বাড়ায়।

কমলা জার্সিটা যেন ভেঙ্কেটেশ আইয়ারের ভীষণ পছন্দের। আগুনের ওই বর্ণিল আভা ভেঙ্কেটেশের চোখে-মুখে আক্রোশের তেজ বাড়ায়। আর তাতেই ভষ্ম হয় সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ।

২০২৪ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালে ভেঙ্কির ব্যাট থেকেই এসেছিল অর্ধশতক। সেই হাফসেঞ্চুরিতে ভর করেই শিরোপা জিতেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ইডেন গার্ডেন্সে সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেম ভেঙ্কেটেশ আইয়ার।

আক্রমণের চির ভয়ংকর রুপে আবির্ভূত হয়েছিলেন তিনি বাইশ গজে। মোটামুটি মানের সংগ্রহকে দিয়েছেন বাড়তি বুস্ট। তার ২০০ এর বেশি স্ট্রাইকরেটে খেলা ইনিংসটির কল্যাণেই ২০০ ছুয়েছে কলকাতা সংগ্রহ। স্রেফ ২৯টি বলে ৬০টি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করেন তিনি কলকাতার স্কোরবোর্ডে।

তবে ভেঙ্কেটেশের এমন আক্রমণাত্মক হওয়ার ভিত্তি অবশ্য গড়ে দিয়েছিলেন আঙকৃষ্ণ রাঘুবানশি। হায়দ্রাবাদের যদি থাকে দুর্ধর্ষ টপ অর্ডার, তবে কলকাতার আছে সুদৃঢ় মিডল অর্ডার। তরুণ রাঘুবানশির কাঁধে ছিল এদিন গুরুদায়িত্ব। মাত্র ১৬ রানেই দুই উইকেট হারায় কলকাতা। ২০ না পেরুনো রাঘুবানশি নিজের উপর নিয়ে নেন ইনিংস মেরামতের কাজ। যদিও তাকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে।

রাঘুবানশির ব্যাট থেকে আসে ৫০ রান। ততক্ষণে অবশ্য প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে ফেলেছিল কলকাতা। এবার তাদের লক্ষ্য ছিল বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যাওয়া। সেই কাজের সূচনাও করতে চেয়েছিলেন রাঘুবানশি। কিন্তু কামিন্দু মেন্ডিসের ধূর্ততা আর বিরল প্রতিভার কাছে হার মানতে হয় তাকে।

ডানহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে বা-হাতি অর্থোডক্স স্পিন আর বা-হাতি ব্যাটারকে পেলেই ডানহাতে অফ স্পিন করেন কামিন্দু। হাত বদলের এই দোলাচলে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন রাঘুবানশি। তবে তিনি না পারলেও পঞ্চাশতম আইপিএল ম্যাচ খেলতে নামা রিঙ্কু কিন্তু ঠিকই অপরাজিত থেকেছেন।

রিঙ্কুর কাঁধে প্রত্যাশার ভীষণ চাপ। সে চাপকে উড়িয়ে দিয়ে রিঙ্কু নিজের চিরায়ত আগ্রাসনের প্রতিচ্ছবি আঁকেন রিঙ্কু। ১৭ বল খেলে ৩২ রানে অপরাজিত থেকেছেন বা-হাতি এই ব্যাটার। এবারের আইপিএলে এটিই তার এখন অবধি সর্বোচ্চ। শেষ দিকে ভেঙ্কেটেশ আইয়ারের সাথে জুটি গড়েন তিনিও। সমানতালে আক্রমণের তাণ্ডবনৃত্য মঞ্চস্থ করেন দুই জনে মিলে। তাতে করে শেষ ২৪ বলে ৬৬ রান যুক্ত হয় কলকাতার সংগ্রহের খাতায়। এই দুই জনে গড়েন ৪১ বলে ৯১ রানের জুটি।

এদফা আর ইডেনের দর্শকদের চুপ করাতে পারেননি প্যাট কামিন্স ও তার দল। চার-ছক্কার উন্মাদনায় মাতোয়ারা ছিল কলকাতার দর্শকরা। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের তুখোড় ব্যাটিং লাইনআপের সামনে কলকাতাও রাখল নিজের ব্যাটিং সামর্থ্যের প্রমাণ। এই ধারায় শিরোপা ধরে রাখার প্রত্যয়েই হয়ত এগিয়ে যেতে চাইবে কলকাতা নাইট রাইডার্স।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link