সব জিতে গেলে জেতার মাহাত্ম্য একদিন বিলিন হয়ে যায়। তাইতো রাজাদের শত সংগ্রামের শেষেও পরাজয় লেখা হয়। বিরাট কোহলিকে রাজা বলতে নিশ্চয়ই দ্বিধা নেই কারো। ‘চেজ মাস্টার’ এদিনও তাড়া করলেন অবিশ্বাস্য এক জয়কে। নিজে শতক হাঁকালেন লড়াই করলেন বীরের বেশে। তবুও বিষাদের নোনাজলের বর্ষণ হয়েছে দিনশেষে।
যতক্ষণ অবধি টিকে ছিলেন বিরাট কোহলি, তখন অবধি আলো দিয়ে যাচ্ছিল জয়ের প্রদীপবাতি। কিন্তু যেই মুহূর্তে তিনি বিষন্ন বদনে ছাড়লেন মাঠ, সবাই জানল এক অবাধ্য যোদ্ধার পতন ঘটেছি, দূর্গ বাঁচানো দায়! নিউজিল্যান্ডের উচ্ছ্বাস যেন বাঁধ ভাঙা, উপড়ে ফেলা গেছে গলার সবচেয়ে বড় কাঁটা।

৩৩৮ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে ব্ল্যাকক্যাপসদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ৪৬ ওভার। শুভমান গিল চলে যায়, রোহিত শর্মাও সাজঘরে বসে রয়, শ্রেয়াস আইয়ারের প্রস্থান ঘটে, লোকেশ রাহুল এদিন ব্যর্থ। রান পাহাড়ে ভারতের পতাকা তোলার সম্ভবনা স্তিমিত হয়। নিউজিল্যান্ডের আনন্দের ধোঁয়াশার মাঝে ভয়ের প্রতিরুপ হয়ে টিকে থেকেছেন স্রেফ এক অদম্য ব্যক্তি।
বিরাট কোহলি হারার আগে হারতে চান না। লড়াইয়ের আগেই ফয়সালা শুনতে চান না। প্রায় আড়াই ঘন্টা তিনি সংগ্রাম চালালেন বাইশ গজে। ১০৮টি বল মোকাবেলা করেছেন তিনি ব্ল্যাকক্যাপস বোলারদের। প্রলোভন এসেছে কত! ভয় ধরানো বলও ছিল, তবুও অবিচল চিত্তে তিনি লড়াই করে গেলেন।

ব্যক্তিগত ১২৮ রানের সময় দলের প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে লং অফের উপরে শট চালালেন। ছক্কা হল না, সংগ্রামের শেষটায় এবার আর জয় লেখা হল না। ড্যারিল মিচেল নামক এক অতিমানবীয় চরিত্র রাজা বিরাটের প্রস্থান ঘটাল। সেখানেই থেমে গেল স্টেডিয়ামের সকল উচ্ছ্বাস। হতাশার ঘোর অন্ধকারে ছেয়ে গেল চারিপাশ।











