দারুণ জয়ে চট্টগ্রামকে শঙ্কায় ফেলে দিল ঢাকা

১২৮ রানে ঢাকার বিপক্ষেও অলআউট চট্টগ্রাম রয়্যালস। সেটাই বরং তাদেরকে প্লে-অফের আগে ফেলে দিচ্ছে দুশ্চিন্তায়।

দারুণ জয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করল ঢাকা ক্যাপিটালস। অন্যদিকে প্লে-অফের আগে টানা দুই পরাজয়ের রিয়েলিটি চেক হল চট্টগ্রাম রয়্যালসের। সাইফ হাসানের ব্যাট ভর দিয়ে বড় রানের সংগ্রহ গড়ে ঢাকা। সেই লক্ষ্যমাত্রা টপকানোর আগেই তাসের ঘর চট্টগ্রামের ব্যাটিং ইউনিট। ৪২ রানের জয় দিয়ে দ্বাদশ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে শেষ হল ঢাকা অধ্যায়।

এদিন টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন, শেখ মেহেদী হাসান। সাইফ হাসান এদিন ফর্মে ফিরতে চাইলেন প্রচণ্ডভাবে। ফিরলেনও তিনি। ১৬৬ স্ট্রাইকরেটে চলল তার ব্যাট। ৪৪ বলে পাঁচটি করে ছক্কা-চারে তিনি করলেন ৭৩ রান। এছাড়া উসমান খানে ৬ বলে ১৬ রান ছিল ঢাকার পক্ষে দারুণ ইনিংসের দ্বিতীয় ঘটনা।

বাকি ব্যাটাররা ব্যর্থ হওয়ার পরও, ১৭০ অবধি পৌছায় ঢাকা ক্যাপিটালসের সংগ্রহ। চট্টগ্রামের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন শরিফুল ইসলাম। চার ওভারে ১৮ রানে দুই উইকেট বাগিয়ে নেন তিনি। তবে তার সেই ভাল বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা রান তাড়ায় ধরে রাখতে পারেননি তার দলের ব্যাটাররা।

প্রথম চার ব্যাটারের দুইজন ফিরেছেন শূন্যরানে। নাঈম শেখও কার্যকর ইনিংস খেলতে পারেননি। ঢাকা বোলাররা এদিন জয় ছিনিয়ে নিতে ছিলেন বদ্ধপরিকর। তাদের হয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ২০ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট তুলে নেন তিনি। তাতে করে চট্টগ্রামের জয়ের পথ হয়েছে সংকীর্ণ।

শেষের দিকে পাকিস্তানি অলরাউন্ডার আমির জামাল অবশ্য তুলেছিলেন ঝড়। ২৬ বলে ৪২ রান কমিয়েছে ব্যবধান। এছাড়া আর কোন ব্যাটারই রান করতে পারেননি। তাতে করে ১২৮ রানেই গুটিয়ে যায় চট্টগ্রামের ইনিংস। আগের ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সের বিপক্ষে ১২৫ রানে অলআউটের পর, ১২৮ রানে ঢাকার বিপক্ষেও অলআউট চট্টগ্রাম রয়্যালস। সেটাই বরং তাদেরকে প্লে-অফের আগে ফেলে দিচ্ছে দুশ্চিন্তায়।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link