কোহলির জবানবন্দিতে আরসিবির ফাইনাল

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) বাইশ গজে কত বসন্ত এলো-গেল, কিন্তু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ট্রফি ক্যাবিনেট তৃষ্ণার্তই থেকে গিয়েছিল দীর্ঘ আঠারোটি বছর। অবশেষে ২০২৫ সালের আইপিএল ফাইনালে পাঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে সেই অপয়া ইতিহাসের যবনিকা টেনেছে কোহলি বাহিনী।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) বাইশ গজে কত বসন্ত এলো-গেল, কিন্তু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ট্রফি ক্যাবিনেট তৃষ্ণার্তই থেকে গিয়েছিল দীর্ঘ আঠারোটি বছর। অবশেষে ২০২৫ সালের আইপিএল ফাইনালে পাঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে সেই অপয়া ইতিহাসের যবনিকা টেনেছে কোহলি বাহিনী। সম্প্রতি আরসিবির সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা এক আবেগঘন ভিডিওতে কোহলি উন্মোচন করেছেন সেই ঐতিহাসিক রাতের স্নায়ুচাপ এবং তাঁর দীর্ঘ যাত্রার কিছু না বলা কথা।

এর আগে ২০০৯, ২০১১ এবং ২০১৬ সালে তিনবার ফাইনালে উঠলেও ট্রফি ছোঁয়া হয়নি আরসিবির। সেই বারবার ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণা ২০২৫ সালের এই জয়কে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা, যা কেবল একটি ট্রফি জয় নয়, যেন এক দীর্ঘ সংগ্রামের সার্থকতা।

অতীতের তিনটি ফাইনালে পরাজয়ের গ্লানিকে আরসিবি এবার নেতিবাচক বোঝা হিসেবে নয়, বরং ইতিবাচক অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করেছে। কোহলি বিশ্বাস করেন, সেই সাফল্যের দোরগোড়া থেকে ফিরে আসার অভিজ্ঞতাগুলোই তাঁদের চ্যাম্পিয়ন চরিত্র তৈরিতে সাহায্য করেছে।

বিরাট বলেন, ‘অতীতে বারবার ফাইনালে গিয়েও জিততে না পারার যে ইতিহাস, সেটাই এবার আমাদের স্নায়ু ধরে রাখার বাড়তি শক্তি জুগিয়েছিল। এখনকার আইপিএল অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক। কোনোভাবেই আপনি ভাগ্য বা আকস্মিকতায় ফাইনালে পৌঁছাতে পারবেন না।’

ম্যাচ যখন একদম শেষ পর্যায়ে, তখন কোহলির চোখের সামনে যেন আস্ত একটা সিনেমা চলছিল। দীর্ঘ আঠারো বছরের প্রতিটি উত্থান-পতন, আনন্দ আর কান্নার মুহূর্তগুলো কয়েক মিনিটের মধ্যে তাঁর স্মৃতিতে ভিড় করে আসছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর যখন সাফল্যের সেই শেষ দশ মিনিট ঘনিয়ে আসছিল, সেই তীব্র অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব বলেই মনে করেন তিনি।

পুরো ম্যাচের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন সময়ের কথা জানতে চাইলে কোহলির উত্তরটি ছিল বেশ চমকপ্রদ। তিনি জানিয়েছেন, যখন আরসিবির জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে, তখনই তিনি সবচেয়ে বেশি অস্থির হয়ে পড়েছিলেন। শেষ ওভারে বল করছিলেন জোশ হ্যাজেলউড। যদিও হ্যাজেলউডের ওপর কোহলির অগাধ আস্থা ছিল, তবুও মনের কোণে এক চিলতে ভয় কাজ করছিল – যদি কোনো অঘটন ঘটে যায়!

​কোহলির ভাষায় জয় যখন হাতের নাগালে, ঠিক তখনই প্রতিটা মুহূর্ত অনন্তকাল মনে হয়। বিশেষ করে শেষ তিনটি বলের জন্য অপেক্ষা করাটা ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত সেই তিনটি বল নির্বিঘ্নে পেরিয়ে যেতেই আঠারো বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটে এবং চিন্নাস্বামী মেতে ওঠে ঐতিহাসিক এক উৎসবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার মরুভূমি শেষে কোহলির দুচোখে তখন ঝরেছিল প্রশান্তির বারিধারা।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link