ভারতের আগ্রাসী টি-টোয়েন্টি দলে শুভমান গিলের ব্যাটিং যেন চোখের বালি। অভিষেক শর্মার ২০০ স্ট্রাইক রেটের উল্টো পাশে গিলের কচ্ছপ গতির ইনিংস দেখা একটু অসস্তিকর বটে। নিজেকে কোনোভাবেই মানিয়ে নিতে পারছেন না এই ফরম্যাটে, যা ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে।
২০২৩ সালের পর থেকে ভারতের ওপেনারদের পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যানে এসেছে বড় রকমের পরিবর্তন। আধুনিক টি-টোয়েন্টির প্রেক্ষাপটে এই দল হয়েছে আরও আক্রমণাত্মক, যার পেছনে অবশ্য রয়েছে অভিষেক শর্মার বড় অবদান। এখন পর্যন্ত ২৩ ইনিংসে ৯১২ রান করেছেন। ১৯৬ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা দলের সেরা আগ্রাসী ব্যাটার তিনি।
ওপেনারদের মধ্যে সঞ্জু স্যামসন এবং যশস্বী জয়সওয়ালও দ্রুতগতিতে রান তুলতে পারেন। দুজনের টি-টোয়েন্টি স্ট্রাইক রেটটাও চোখে পড়ার মতো। ওপেনিংয়ে স্যামসনের স্ট্রাইক রেট ১৮৩-এর কাছাকাছি, আর জয়সওয়ালের ১৬৪.৩১। তবে স্যামসনের পজিশন বদল হয়েছে, আর জয়সওয়ালের সুযোগের দরজা আপাতত বন্ধ। মূলত গিলকে জায়গা দিতেই আসন ছাড়তে হয়েছে তাঁদের।

অন্যদিকে, গিল ২০২৩ সালের পর ৩০ ইনিংসে করেছেন ৭৪৭ রান। তবে তাঁর স্ট্রাইক রেট মাত্র ১৪১.১৭। আড়াই বছরে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেললেও টি-টোয়েন্টিতে রান তোলার তাড়না তাঁর ব্যাটে নেই।
টি-টোয়েন্টির দায়িত্ব নিয়ে গৌতম গম্ভীর আক্রমণাত্মক খেলার পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন, যার সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতেন অভিষেক এবং স্যামসন। দুজনে ছন্দে ছিলেন, দলকে প্রতি ম্যাচেই ভালো শুরুও এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু গিলের অন্তর্ভুক্তি সেই গতিটা থামিয়ে দিয়েছে। পাওয়ার প্লেতে সেট হতে সময় নেন এবং পরবর্তীতে বড় শট খেলেন, তবে গিলের এই দর্শনটা আধুনিক যুগে একেবারেই সেকেলে।
ফলে, গিলের ব্যাটিং ভারতের ওপেনিংয়ে চাপ বাড়াচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে তাঁর ১১৭ স্ট্রাইক রেটের ব্যাটিংটাই যার জলজ্যান্ত প্রমাণ। ৪৫ রান করেছেন ঠিকই, তবে ব্যাটিং স্বর্গে দাঁড়িয়ে এমন ধীরগতির ইনিংস আদতে কোনো কাজের নয়। তবে সমাধান আসলে কী?

বাস্তবে, গিলকে সরানো সম্ভব নয় কারণ তিনি দলের সহ-অধিনায়ক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বড় অংশ। তবে দলকে শক্তিশালী করতে হলে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দুটি পথ আপাতত খোলা—অভিষেক শর্মার সঙ্গে ওপেনিংয়ে স্যামসনকে ফিরিয়ে আনা, অথবা যশস্বী জয়সওয়ালকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে যুক্ত করা। যা ভারতের শুরুতে আরও বেশি আগ্রাসন এনে দিতে পারে।











