বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ‘উদ্বেগজনক ও ক্ষতিকর’

‘উদ্বেগজনক ও ক্ষতিকর’ এই দুই শব্দ জোড়াই বলে দেয়, বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করা, ঠিক কতটা দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনকে (ডব্লিউসিএ)। তাদের মতে, এই ঘটনা ক্রিকেটের বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

এক বিবৃতিতে ডব্লিউসিএ জানিয়েছে, বাংলাদেশের মতো বিশাল সমর্থন গোষ্ঠী আছে এমন এক পূর্ণ সদস্য দেশের অনুপস্থিতি ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় টি-টোয়েন্টি মঞ্চে একটি খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি করল। ডব্লিউসি- এর প্রধান নির্বাহী টম মফ্যাট মনে করেন, বাংলাদেশের বাদ পড়ায় আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের শূন্যতা।

‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর অর্থ হলো, ক্রিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ তার সবচেয়ে বড় মঞ্চে অনুপস্থিত থাকবে। এটি ক্রিকেটের জন্য, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য এবং লাখো সমর্থকের জন্য গভীরভাবে হতাশাজনক’, বলেন মফ্যাট।

এই ইস্যুতে আত্মসমালোচনার সময় এসেছে বলেও মনে করেন ডব্লিউসিএ প্রধান। বিভাজনের পথে না গিয়ে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন তিনি। ‘আমরা চাই ক্রিকেটের নেতৃত্বস্থানীয়রা শাসন সংস্থা, লিগ, খেলোয়াড় এবং সব অংশীজনের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করুক। এটি বাদ দেওয়া বা বিভক্তির সময় নয়— এটি সহযোগিতার সময়’।

ডব্লিউসিএর মতে, বাংলাদেশের এই পরিস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে যে ক্রিকেটের ভেতরে গুরুতর কাঠামোগত সমস্যা রয়ে গেছে। মফ্যাট বলেন, চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে পালন না করা এবং বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় খেলোয়াড় ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনার ঘাটতি নিয়ে সংস্থাটি বহুদিন ধরেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।

বাংলাদেশের ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ক্রিকেট শাসনব্যবস্থার মডেলের সীমাবদ্ধতা এবার স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। ‘এই সমস্যাগুলো যদি অবহেলিতই থাকে, তাহলে পুরো ব্যবস্থার ওপর আস্থা, খেলাটির ঐক্য এবং ক্রিকেটের ভবিষ্যৎই ঝুঁকিতে পড়বে’, সতর্ক করেন মফ্যাট।

বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানো ইতোমধ্যে ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাবেক ক্রিকেটার, বিশ্লেষক ও সমর্থকেরা আইসিসির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, সদস্য বোর্ডগুলোর ক্ষমতার ভারসাম্য এবং বাণিজ্যিক স্বার্থের বাড়তি প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

একই সঙ্গে উদ্বেগ বাড়ছে এই কারণে যে, বছরের পর বছর বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সত্ত্বেও বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এবার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চ থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন।

ডব্লিউসিএর মন্তব্যের পরও আইসিসির পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় শক্তিশালী খেলোয়াড় প্রতিনিধিত্বের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link