হেলমেটে লাথি দেওয়ার ‘আসল’ সত্যিটা কি?

বাংলাদেশ টেস্ট দলের শক্তি শুধু মাঠের পারফরম্যান্সে নয়, ড্রেসিংরুমের সংস্কৃতিতেও। আর সেই সংস্কৃতি গঠনে মুশফিকের মতো একজন সিনিয়রের এমন আচরণ দলের জন্য ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে আছে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের সময় একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সাজিদ খানের বলে আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে হেলমেটে লাথি মেরেছিলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম।

মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিও দেখে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, ব্যক্তিগত মাইলফলক হাতছাড়া হওয়ার হতাশা থেকেই এমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন তিনি। সেদিন, সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিক খেলেছিলেন দুর্দান্ত ১৩৭ রানের ইনিংস।

১৫০ কিংবা আরও বড় স্কোরের সম্ভাবনা ছিল সামনে। কিন্তু সাজিদ খানের বলে আউট হওয়ার পর হতাশা লুকাতে পারেননি তিনি। ঘটনাটি তখন বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়।

তবে প্রথম আলোর পডকাস্টে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তাতে ঘটনার ভিন্ন একটি দিক সামনে এসেছে।

শান্তের ভাষ্য অনুযায়ী, মুশফিকের হতাশার কারণ রান মিস করা ছিল না। বরং যে বোলারকে বাংলাদেশের ব্যাটাররা পুরো সিরিজে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছিলেন, সেই সাজিদ খানের কাছেই উইকেট দিয়ে আসায় তিনি বেশি বিরক্ত ছিলেন। যদিও শান্ত বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেননি, তবে কথার ভঙ্গিতে সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল।

তবে ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি ঘটেছে ড্রেসিংরুমে ফিরে। শান্ত জানান, আউট হয়ে ফেরার পর মুশফিক সতীর্থদের কাছে ‘সরি’ বলেছিলেন। একজন সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে নিজের আবেগ প্রকাশের জন্য দলের কাছে দায় স্বীকার করাটাকেই বড় বিষয় হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

শান্তের মতে, বর্তমান বাংলাদেশ টেস্ট দলের শক্তি শুধু মাঠের পারফরম্যান্সে নয়, ড্রেসিংরুমের সংস্কৃতিতেও। আর সেই সংস্কৃতি গঠনে মুশফিকের মতো একজন সিনিয়রের এমন আচরণ দলের জন্য ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে আছে।

বাইরে থেকে যেটা অনেকের কাছে ব্যক্তিগত হতাশার দৃশ্য ছিল, দলের ভেতরে সেটাই হয়ে উঠেছিল দায়িত্ববোধ ও জয়ের ক্ষুধার আরেকটি প্রতিচ্ছবি।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link