সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ মালিকের রহস্য

যদিও তার ব্যক্তিগত জীবন বেশ রহস্য দিয়ে ঘেরা। তবে জোরগুঞ্জন এখন আপাতত ব্যবসা আর পরিবার নিয়েই ব্যস্ত তিনি।

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের গ্যালারিতে রহস্যময় এক তরুণী। মেতে থাকেন ক্রিকেটীয় উন্মাদনায়। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে রীতিমতো দানবদের দলই বলা যায়। বাইশ গজে ট্রাভিস হেড, হেনরিখ ক্লাসেনরা যে তান্ডব চালাচ্ছেন তা ভয়ানক সুন্দর তো বটেই। কখনো লক্ষ্য করেছেন, সেই চার ছক্কার ডামাডোলে হায়দ্রাবাদের গ্যালারিতে সবচেয়ে উচ্ছ্বসিত মেয়েটা কে? ইন্টারনেট জগতে তিনি কেন এত আলোচিত! তার পরিচয়ই বা কি?

তার নাম কাভিয়া মারান। হায়দ্রাবাদের খেলা হলেই হৃদয় আর শিরোনামে রাজ করে চলেছেন তিনি। হায়দ্রাবাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবেই পরিচিত মারান। কাভিয়া হচ্ছেন ভারতের বিখ্যাত কোম্পানি সান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও মালিক কালানিথি মারানের মেয়ে। ১৯৯২ সালের ৬ আগস্টে তামিলনাড়ুর চেন্নাইতে  জন্ম গ্রহণ করেছেন তিনি।

২০১২ সালে চেন্নাই থেকে সম্পন্ন করেন কর্মাসের উপর নিজের ব্যাচেলর ডিগ্রি। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য চলে যান লন্ডনে। সেখান থেকে ২০১৬ সালে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করে দেশে ফিরে পারিবারিক ব্যবসায় মন দেন তিনি।

একটা সময় খুবই পরিচিত একটা নাম তখন থেকেই আলোচনায় আসতে শুরু করে। মারান রাতারাতি ইন্টারনেট দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করে ফেলেন। তার কিছু অমায়িক ছবি ক্রিকেট ভক্তদের মনে দাগ কাটা শুরু করে খুব দ্রুতই।

মারান পরিবার যদিও অনেক আগে থেকেই মিডিয়া জগতে বড় নাম। তার বাবা কালানিথির যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত সান টিভি নেটওয়ার্ক ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের সাফল্য বড় ভূমিকা রাখে। তার পরিবার বেশ বড় রাজনীতি ও ব্যবসায়ী এতিহ্য দিয়ে ঘেরা। তার দাদা মুরাসলি মারান ইউনিয়ন মিনিস্টার অফ কর্মাস হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সান গ্রুপের জয়েন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবার তার মা। যিনি কি-না ভারতের অন্যতম শীর্ষ ধনী নারীদের একজন।

আইপিএল ২০২৫ এর আগেই হায়দ্রাবাদের এমন সাফল্যর পিছে কাভয়ার ভূমিকা অনেক। হাজার কোটির দল কিনে পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে হতভম্ব করে দিয়েছেন তিনি। তার এই সাহসী পদক্ষেপ মারান পরিবারের লিগ্যাসি ধরে রাখতে নিশ্চয়ই সাহায্য করবে। নিজেকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকারী লিডার ও সাংস্কৃতিক ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবেই গড়ে তুলছেন তিনি ভারতীয় ক্রিকেট অঙ্গনে।

শুধু তার পরিবারের নামের জোরেই নিজেকে এই পর্যায়ে আসেননি তিনি। নিজের ন্যাচারাল কারিশমা, আত্নবিশ্বাসী আচারণ, অনায়াসেই ক্রিকেটে খাপ খাইয়ে নেওয়ার গুনই তাকে ক্রিকেটের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে এসে তাকে। ২০২৪ সালে ‘ফেস এন্ড ফোর্স বিহাইন্ড সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ’ হিসেবে জিতেছেন দেবী এওয়ার্ডও। ফ্রাঞ্চাইজিটির প্রতি প্রভাব ও ডেডিকেশন এখানেই স্পষ্ট।

যদিও তার ব্যক্তিগত জীবন বেশ রহস্য দিয়ে ঘেরা। তবে জোরগুঞ্জন এখন আপাতত ব্যবসা আর পরিবার নিয়েই ব্যস্ত তিনি। কাভয়া মারান শুধুমাত্র তার পরিবারের ঐতিহ্যকে আগেই বাড়াচ্ছেন না, তাতে যুক্ত করছেন নতুন মাত্রাও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছোয়া এনে দিয়েছেন তাদের বহুযুগের ব্যবসায়ী পরিবারের পালে।

দর্শক গ্যালারিতে তার আর্কষনীয় উপস্থিতি ম্যাচগুলো করে তুলছে আরও জনপ্রিয়। দর্শকরাও এখন অধীর আগ্রহ বসে থাকেন তাকে মাঠে দেখতে। তাকে ঘিরে যে স্পোর্টস আর সেলিব্রিটি কালচারটা গড়ে উঠছে তা কিন্তু সময়ের সাথে বাড়তেই থাকবে, তা একদম নিশ্চিত। সময়ের সাথে ব্যবসা আর সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে কোথায় নিয়ে যান তিনি, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link