পাঁচ নম্বরের বিকল্প কে?

বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশের হাতে বিকল্পের কমতি নেই। তবে, বাংলাদেশ কার সাথে ভবিষ্যৎ ভাবতে চায় নিজেদের সেটা জানতে সময়ের অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। 

লিটন দাস যেভাবে প্রকাশ্যে শামিম পাটোয়ারির সমালোচনা করেছেন, তাতে একটা বিষয় স্পষ্ট – পাঁচ নম্বরে পরিবর্তন আনতে চলেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেই সেই জায়গায় একাদশে চলে আসতে পারেন জাকের আলী।

কিন্তু, প্রশ্ন হল এই জায়গায় জাকের আলী নিজেও স্টেবল না। তাহলে সমাধান কি? যদি বর্তমান স্কোয়াডেই ভরসা রাখতে হয়, তাহলে সবচেয়ে সহজ সমাধান হচ্ছে অধিনায়ক লিটন দাসের নিজেরই পাঁচ নম্বরে নেমে যাওয়া। ওয়ানডেতে তিনি এর আগে পাঁচ নম্বরে খেলেছেনও। আর তিনি যে ঘরাণার ব্যাটার, সেখানে পাঁচ নম্বরের জন্য মানানসই হতে পারেন।

সেক্ষেত্রে পারভেজ হোসেন ইমনকে নিয়ে ওপেন করতে নামবেন তানজিদ হাসান তামিম। তিন নম্বরে সাইফ হাসান নামবেন। সাইফ হাসান তিন নম্বরে আগেও খেলেছেন। সেটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে, বাংলাদেশের এই অ্যাপ্রোচে খেলার সম্ভাবনা কম।

জাকের আলীও এই জায়গায় ব্যর্থ হলে, বিকল্পের সন্ধান করা হবে। এখানে কয়েকটা বিকল্প তৈরি আছে ঘরোয়া ক্রিকেটে। তিনজনের নাম এখানে না বললেই নয়। ইয়াসির আলী রাব্বি কিংবা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত আছেন। দুজনই জাতীয় দলে খেলেছেন আগে, আরেকজন বিকল্প হতে পারেন আকবর আলী – সেক্ষেত্রে উইকেটরক্ষক হিসেবেও বিকল্প বাড়বে বাংলাদেশের।

ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির কাঠামোতে এই পজিশনে নিজেদের সক্ষমতা দেখাচ্ছেন এই তিনজন। বাংলাদেশ একটু ঝুঁকি নিতে চাইলে সাব্বির রহমান রুম্মানও এই পজিশনের জন্য আদর্শ ব্যাটার হতে পারেন। তাঁর সামর্থ্য নিয়ে শঙ্কা নেই। নিজের দিনে তিনি কি করতে পারেন – সেটা কে না জানে। সম্প্রতি ঘরোয়া ক্রিকেটেও ফর্ম দেখাচ্ছেন। ফলে, তাঁর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশের হাতে বিকল্পের কমতি নেই। তবে, বাংলাদেশ কার সাথে ভবিষ্যৎ ভাবতে চায় নিজেদের সেটা জানতে সময়ের অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link