দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে স্পিন সামলাতে না পেরে ঘরের মাঠে নাকানিচুবানি খেতে হয়েছে ভারতকে। দুই ইনিংসেই সাইমন হার্মারের স্পিন ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপকে ভেঙেছে তাসের ঘরের মতো।তবে এই পরাজয় শুধু এক টেস্টের নয়, বরং একটা বড় সমস্যার প্রতিচ্ছবি স্পিনে ভারতের ভয়াবহ দুর্বলতা।
গত বছর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ০-৩ ব্যবধানে সিরিজ হার তাদের এই দুর্বলতা স্পষ্ট করেছিল। এবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একই ছবি আরও তীব্রভাবে সামনে এল। একসময় ঘরের মাঠে স্পিনের বিপক্ষে অজেয় ছিল ভারত, কিন্তু এখন সেই পরিচয় ধুলায় মিশে গেছে। ভারতীয় ব্যাটাররা যেন নিজেদের ঘরেই অপরিচিত। যেসব স্পিনারের বিপক্ষে আগে স্বচ্ছন্দে রান তুলতেন, এখন তাদের সাধারণ ভ্যারিয়েশনেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন ভারতীয়রা।
পরিসংখ্যানই এর প্রমাণ। ২০১৬ থেকে ২০১৯ এই সময়টায় ভারতের ব্যাটিং ছিল স্পিনের বিপক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী। উইকেটপ্রতি গড় রান ছিল ৫৩.৩, আর প্রতিটি উইকেট পেতে প্রতিপক্ষকে করতে হতো গড়ে ৮৫ বল। কিন্তু ২০২০ এর পর থেকে এই গ্রাফ নিচের দিকেই নেমেছে।

উইকেটপ্রতি গড় রান কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৩.৮-এ, আর আউট হতে লাগছে কেবল ৫৬ বলের মতো। এমন পতনই বলে দেয় ভারতীয় ব্যাটারদের স্পিন খেলা কতটা পিছিয়েছে পাঁচ বছরে। স্ট্রাইক রেটে তেমন পার্থক্য না থাকলেও টেকনিক্যাল সমস্যা, ডিফেন্সিভ জাজমেন্ট, লেংথ রিডিং সব জায়গাতেই দুর্বলতা স্পষ্ট।
তবে এর পেছনের কারণ কি? সবার আগে আসতে পারে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চাপ। প্রতি ম্যাচ জেতার তাড়নায় ঘরের মাঠে তৈরি হয় অতিরিক্ত স্পিন সহায়ক উইকেট। এতে ভারতীয় স্পিনাররা সুবিধা পেলেও ব্যাটাররাই বরং সমস্যায় পড়ে। টার্নিং পিচে রান করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগায় প্রতিপক্ষ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মিচেল স্যান্টনার এবং এবার সাইমন হার্মার, দুজনই ভারতের এই দুর্বলতাকে নির্দয়ভাবে কাজে লাগিয়েছেন।
আরেকটি কারণ অনুশীলনের অভাব। বিদেশ সফরে পেসারের মুখোমুখি হতে হয় বেশি, তাই ভারতীয় ব্যাটাররা নিজেদের প্রস্তুতি সাজান পেস মোকাবিলার দিকে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্পিন ফেস করার অনুশীলন কমে যাওয়ায় তাদের স্কিলসেট দুর্বল হয়েছে। আগের মতো ফুটওয়ার্ক নেই, নেই আত্মবিশ্বাসও। ফলে যেকোনো মানসম্পন্ন স্পিন আক্রমণের বিপক্ষে পড়তে হচ্ছে বিপাকে।

ইডেনের টেস্ট তাই ভারতের জন্য বড় সতর্ক সংকেত। স্পিনে দুর্বলতা এখন দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা এবং তা ঘরের মাঠেই বেশি দৃশ্যমান। শীর্ষে ফিরতে হলে ভারতকে নতুন করে আয়ত্ব করতে হবে স্পিন সামলানোর দক্ষতা। নাহলে ঘরের মাঠে কষ্টের হারই ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।











