মেসিকে টপকে রদ্রি কেন?

গোল করলেন না, অ্যাসিস্টও করলেন না তবুও লিওনেল মেসিকে টপকে গোল্ডেন বল বাগিয়ে নিলেন রদ্রিগো হার্নান্দেজ। প্রশ্ন আসতে পারে, দাঁড়িপাল্লা কি ঠিকঠাক কাজ করল? সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার তো ছিলেন মেসিই, তবে রদ্রি কেন? 

গোল করলেন না, অ্যাসিস্টও করলেন না তবুও লিওনেল মেসিকে টপকে গোল্ডেন বল বাগিয়ে নিলেন রদ্রিগো হার্নান্দেজ। প্রশ্ন আসতে পারে, দাঁড়িপাল্লা কি ঠিকঠাক কাজ করল? সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার তো ছিলেন মেসিই, তবে রদ্রি কেন?

লিওনেল মেসির গোলসংখ্যা আটটি, অ্যাসিস্টও আছে চারখানা। ফাইনাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার তরী একার কাঁধেই টেনে নিয়ে এসেছেন। অন্যদিকে রদ্রি ছিলেন মাঝমাঠে স্পেনের প্রাণভোমরা। স্পেনের প্রতিটি আক্রমণের সূচনা হয়েছে তাঁর হাত ধরে। প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করার কাজটা করেছেন সুনিপুণভাবে।

রদ্রি পুরো টুর্নামেন্টে খেলেছেন আট ম্যাচ। ৬৫০টি সফল পাস দিয়েছেন। মাঝমাঠে তাঁর একক আধিপত্যই স্পেনকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। তবে সেটা কি মেসিকে টপকে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট? অনেকটা কি মেসির হাতে ওঠা জিনিসকে কেড়ে নিলেন না? এমন প্রশ্ন আপনার মনে জাগতেই পারে। এর আগেও তো ভিনিসিয়াস জুনিয়রের নিশ্চিত ব্যালন ডি’অরটাকেও শেষ মুহূর্তে কেড়ে নিয়েছিলেন তিনি।

এর আগে একটু গোল্ডেন বলের বিজয়ী কীভাবে নির্ধারণ করা হয়, সেটা দেখে নিই। এই পুরস্কার কেবল গোল বা অ্যাসিস্টের হিসাব দেখে দেওয়া হয় না। ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে। এরপর স্বীকৃত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাংবাদিকদের ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়। সেখানে গোল-অ্যাসিস্টের পাশাপাশি বিবেচনায় থাকে ম্যাচে প্রভাব, ধারাবাহিকতা, বড় ম্যাচে পারফরম্যান্স, দলের সাফল্যে ভূমিকা, খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ, সুযোগ সৃষ্টি, নেতৃত্ব এবং সামগ্রিক অবদান। তাই অনেক সময় সর্বোচ্চ গোলদাতা নন, বরং পুরো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রভাবশালী ফুটবলারই জিতে নেন গোল্ডেন বল।

ফাইনালেও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রদ্রি ছিলেন স্পেনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ফুটবলার। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোলের আগে পর্যন্ত স্পেনের আক্রমণের প্রতিটি ছন্দ তাঁর পা থেকেই তৈরি হচ্ছিল। পুরো ম্যাচে বলের দখল, পাসিং এবং মাঝমাঠের লড়াইয়ে স্পেনের আধিপত্যের অন্যতম প্রধান কারণ ছিলেন তিনিই।

তবুও ধোঁয়াশা কাটবে না সহজে। সংখ্যার বিচারে, নেতৃত্বে, ইমপ্যাক্টের হিসাবে, দলের সাফল্যে সবখানেই তো মেসি ছিলেন, সবকিছুতেই এগিয়ে ছিলেন। তবুও কেন রদ্রি, এই বিতর্ক সহজে হয়তো যাবে না।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link