‘জয়হীন’ মরিনহোর দু:সময়

১৮ মাস পর মুখোমুখি হয়েছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। পুরনো ক্লাবের বিপক্ষে হোসে মরিনহোর ‘প্রত্যাবর্তন’টা স্মরণীয় হতে পারতো। স্টেফেন বের্গউইনের প্রথমার্ধের গোলে সৃষ্টি হয়েছিলো টটেনহ্যাম হটস্পারের জয়ের সম্ভাবনাও। কিন্তু শেষদিকে ব্রুনো ফার্নান্দেজের পেনাল্টি থেকে ম্যানচেস্টার সমতা ফেরালে জয়বঞ্চিত থাকে স্পার্স, আরও একবার।

এই ড্রয়ের ফলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজের সাবেক ক্লাবগুলোর বিপক্ষে শেষ ছয় ম্যাচের একটিতেও জিততে পারেনি মরিনহো অ্যান্ড কোং। চেলসি আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে চলতি প্রিমিয়ার লিগে জিতেছেন একটি করে পয়েন্ট।

এর চেয়েও বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে টটেনহ্যামের। শেষ সাত ম্যাচের একটি ম্যাচেও জিততে পারেনি দলটি। এ সময় চারটি ম্যাচে হার আর তিনটিতে ড্র করেছে তারা। শেষ চার বছরে এরচেয়ে বেশি বাজে অবস্থায় আর কখনোই পড়েনি ক্লাবটি। এদিকে মরিনহোর ক্যারিয়ারেও এটিই সবচেয়ে বাজে জয়হীন যাত্রা।

শেষ সাত ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রেডবুল লিপজিগের কাছে হার আর করোনাভাইরাসের কারণে ফুটবল বন্ধ হওয়ার ঠিক আগমূহুর্তে এফএ কাপে নরউইচ সিটির কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হারের স্বাদও পেয়েছে স্পার্সরা, যার ফলে এ মৌসুমে শিরোপাজয়ের আশাও শেষ হয়ে গেছে ক্লাবটির।

এই ড্রয়ের ফলে সামনের মৌসুমে দলটির চ্যাম্পিয়নস লিগে উত্তরণ নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে শঙ্কা। চারে থাকা চেলসি থেকে এখন ছয় পয়েন্টে পিছিয়ে পড়েছে তারা, চেলসি অ্যাস্টন ভিলার মাঠে জিতলে ব্যবধানটা বেড়ে দাঁড়াবে নয়-এ।

তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ঠিক এর বিপরীত অবস্থা। টটেনহ্যামের মাঠ থেকে এক পয়েন্ট পাওয়ায় শেষ ১২ ম্যাচ ধরে অপরাজিত রইলো তারা। এ সময়ে ৩০ গোল করার বিপরীতে হজম করেছে মোটে ৩টি গোল, আটটি জয়ের বিপরীতে চারটি ড্র করেছে তারা।

কোচ ওলে গুনার সোলশায়ারের অধীনে এটি তাদের সেরা অপরাজিত যাত্রাও। ২০১৮ সালে ডিসেম্বরে নরওয়েজিয়ানের অধীনে আসার পরে টানা ১১ ম্যাচে অপরাজিত ছিল তাড়া। এই ড্রয়ের ফলে তারা সেটিকেও পেছনে ফেলেছে।

এর ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরার সম্ভাবনাও বেড়েছে রেড ডেভিলদের। চারে থাকা চেলসির চেয়ে এখন কেবল দুই পয়েন্টে পিছিয়ে আছে তারা।  ইউরোপা লিগেও টিকে আছে দলটি।  শেষ ষোলর প্রথম লেগে লাস্কের বিপক্ষে ৫-০ জয় পেয়েছিলো তারা। টিকে আছে এফএ কাপেও, যেখানে তারা আগামী ২৭ জুন কোয়ার্টার ফাইনালে নরউইচ সিটির মুখোমুখি হবে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link