হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপের দরজা খুলে দিলেন নেইমার

স্যান্তোসের ফ্লাডলাইটের আলোয় তিনি শুধু তিনটি গোল করেননি, নিজের বিশ্বাসটাও নতুন করে উজ্জ্বল করেছেন। যেন বলছেন, নিজের ক্লাবকে, নিজের দেশকে, আর হয়তো ফুটবলকেও অনেক কিছু দেওয়ার বাকি আছে তাঁর।

নেইমারের ক্যারিয়ার যেন শেষ কয়েক বছর ধরে একটাই সুরে বাজত—ইনজুরি, হতাশা, বিরতি, আর পুনরায় শুরুর চেষ্টা। তবুও বুধবার রাতটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অধ্যায়, যেখানে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন যে ফুটবল এখনো তার শরীরেও আছে, মনের ভেতরও আছে। ব্রাজিলের হয়ে আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নটা আবারও উজ্জ্বল করলেন তিনি।

ব্রাজিলিয়ন সিরি ‘এ’ লিগে রিলিগেশনের মুখে দাঁড়ানো স্যান্তোস যখন মৃত্যুকূপে ঢুকে যাচ্ছিল, তখনই সেই পুরোনো ঘরের ছেলে নেইমার ফিরে এলেন উজ্জ্বল আলো হয়ে। হাঁটুর ব্যথা, মেনিস্কাস ছেঁড়া, মৌসুম শেষে সার্জারির সম্ভাবনা—সবকিছুকে যেন দূরে ঠেলে তিনি দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র সতেরো মিনিটের মধ্যে তিনটি গোল করলেন। পুরোনো দিনের মতো গতি আর শিল্পকলার ঝলক দেখা গেলো তার প্রতিটি পদক্ষেপে।

৫৬ মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে এসে প্রথম গোল, এর নয় মিনিট পর ইগর ভিনিসিয়াসের ক্রস থেকে চিরচেনা ফিনিশিং, আর এরপর পেনাল্টি থেকে হ্যাটট্রিক—যেন কেউ একজন নেইমারের ভেতরের সুপ্ত আগুনটা জ্বালিয়ে দিয়েছে। ২০২২ সালের পর প্রথম হ্যাটট্রিক, তবুও তা যেন এক নতুন জন্মের মতো। মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় অষ্টমির মতো উচ্ছ্বাস ছিল না, কিন্তু ছিল গভীর সম্মান—যেন একজন সৈনিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পুরস্কার পাচ্ছেন।

এই জয়ে স্যান্টোস রিলিগেশন জোন থেকে দুই পয়েন্ট উপরে উঠে গেল, সামনে শেষ ম্যাচে শুধু জিতলেই বেঁচে যাবে ক্লাবটি। সেই ক্লাব, যেটাকে নেইমার নিজের ঘর বলে। সেই ঘরকে বাঁচাতে তিনি নিজেকে ভুলে গিয়ে খেলছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন—মৌসুম শেষে সার্জারি লাগবে, কিন্তু নেইমারের মাথায় এখনো চলছে লড়াইয়ের স্রোত। ব্যথা ভুলে খেলছেন, ব্যথা ভুলে গোল করছেন, আর ব্যথা ভুলেই যেন নিজের গল্পটাকে নতুন করে লিখতে চাইছেন।

এখন প্রশ্ন—এই পারফরম্যান্স কি তাকে বিশ্বকাপের দরজায় ফিরিয়ে আনতে পারে? ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি অনেকদিন ধরেই বলছেন, নেইমার সুস্থ থাকলে দলে তার জায়গা আছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ফিটনেস — এই শব্দটাই এখন সবচেয়ে বড় বাধা। হাঁটুর অস্ত্রোপচার, রিকভারি, সময়—সবই নির্ধারণ করবে নেইমারের বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ। তবে এই হ্যাটট্রিক অন্তত একটি কথা স্পষ্ট করে দিয়েছে—নেইমার এখনো হারিয়ে যাননি, বরং তিনি লড়াই করতে প্রস্তুত।

এমন রাতগুলোই নেইমারের মতো খেলোয়াড়দের গল্প বদলে দেয়। স্যান্তোসের ফ্লাডলাইটের আলোয় তিনি শুধু তিনটি গোল করেননি, নিজের বিশ্বাসটাও নতুন করে উজ্জ্বল করেছেন। যেন বলছেন, নিজের ক্লাবকে, নিজের দেশকে, আর হয়তো ফুটবলকেও অনেক কিছু দেওয়ার বাকি আছে তাঁর।

Share via
Copy link