একেবারে লিকলিকে গঢ়নের এক ছোকড়া। ফ্ল্যাঙ্ক দিয়ে করেন একের পর এক ওভারল্যাপিং। ঠিক যেন ইউরোপীয়ান ফুটবলের ছোঁয়া। নিজের বা-পায়ের মূর্ছনা এবার জাতীয় দলেও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জায়ান আহমেদ। তার যাত্রা যেন রীতিমত এক রুপকথা।
এই তো সেদিন, চলতি বছরের জুলাই মাসের কথা। জায়ান আহমেদ, আরও একঝাঁক তরুণের মত পা রেখেছিলেন বাংলাদেশে। স্বপ্ন লাল-সবুজের প্রতিনিধি হওয়া। ফুটবলের বিস্তৃর্ণ ভূবনে এই বাংলার বাহক হওয়া। সুদূর যুক্তরাষ্ট্রের বেশ সম্ভাবনাময় জীবনকে খানিকটা বিরতি দিয়ে এলেন। নিজেকে একটু বাজিয়ে দেখবেন বলে।
জায়ান স্রেফ নিজের ফুটবল প্রতিভার উপর ভরসা রেখে ট্রায়াল দিলেন। তার খেলা যে কারও চোখে লাগতে বাধ্য। ডাক আসে তার বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলে। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি ক্যাম্পে যুক্ত হন। দলের সাথে বাহরাইনেও অনুশীলন ক্যাম্প করতে যান। প্রতিটা পদে পদে নিজের খেলার মুগ্ধতা ছড়ান ২১ বছরের তরুণ জায়ান।

এরপর যথারীতি তিনি সুযোগ পেয়ে যান অনূর্ধ্ব ২৩ জাতীয় দলে। দলের সাথে আবার তিনি উড়াল দিলেন ভিয়েতনামের উদ্দেশ্যে। এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একাদশের নিয়মিত মুখ। বাছাইপর্বে বাংলাদেশের দলগত পারফরমেন্স প্রত্যাশা পূরণে ছিল ব্যর্থ।
সেই দলে ছিলেন ইংল্যান্ড থেকে আসা কিউবা মিচেলও। তিনিও নিজের ঝলক দেখাতে পারেননি সেই টুর্নামেন্টে। কিন্তু জায়ান ঠিকই পেরেছেন। রক্ষণ সামলানো থেকে শুরু করে আক্রমণেও বাড়তি শক্তির জোগানদাতা হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেন। শেখ মোরসালিন, কিউবাদের সাথে তার লিংকআপ প্লে- নতুন আশার সঞ্চার ঘটিয়েছিল বাংলাদেশের কট্টর ফুটবল ভক্তদের মনে।
পুরো মাঠ জুড়ে জায়ানের উপস্থিতি ছিল স্পষ্ট। বাকিদের তুলনায় তাকে আলাদা করা যাচ্ছিল খুব সহজেই। না, সেটা তার শারীরিক গঢ়ন কিংবা উদ্ভট চুলের কাটিংয়ের জন্য নয়। বরং তিনি উজ্জ্বল ছিলেন নিজের পারফরমেন্সে। সেই পারফরমেন্সের পুরুষ্কার হিসেবে জাতীয় দলের ক্যাম্পেও ডাক পেয়ে গেছেন জায়ান।

অক্টোবরে হংকংয়ে বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাই পর্ব খেলবে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠের সেই ম্যাচে জন্য হামজা চৌধুরি, শামিত সোমদের পাশাপাশি জায়ানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জাতীয় দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে। বাংলাদেশের ফুটবলের নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখা প্রত্যেকেই হয়ত এক বাক্যে শিকার করবেন, নিকট অতীতে এত ভাল ফুলব্যাক অন্তত খেলেনি জাতীয় দলে।
অতএব সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মূল দলেও সুযোগ পেয়ে যাবেন জায়ান। কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার গুডবুকেও যে তিনি রয়েছেন। বিশ্বাস ছিল জায়ানের। সেই বিশ্বাস থেকেই এই বাংলা ফুটবলের জগতে পা রাখলেন। এখন জাতীয় দলের হয়ে মাঠের নামার দিনক্ষণ গুনছেন। এই সবকিছুই ঘটে গেল মাস চারেকের মধ্যে। এই তো রুপকথা, জায়ান আহমেদের নিজস্ব রুপকথা।











