বিশ্বকাপের কোচরা ঘুমান টাকার বিছানায়

ফিফা বিশ্বকাপের উত্তাপ শুধু মাঠে নয়, ছড়িয়ে পড়েছে ডাগআউটেও। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে কৌশল, নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফুটবল তারকাদের সঙ্গে সঙ্গে সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন খেলতে আসা জাতীয় দলগুলোর প্রধান কোচরা।

সে কারণেই বিশ্বের শীর্ষ কোচরা পাচ্ছেন রেকর্ড অঙ্কের পারিশ্রমিক। এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ১০ কোচদের তথ্য এবার জেনে নেওয়া যাক।

আর্জেন্টিনাকে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জিতিয়ে ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটান লিওনেল স্কালোনি। এর আগে ২০২১ সালে মারাকানায় ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপাও এনে দেন তিনি।

২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবারের বিশ্বকাপে স্ক্যালোনির হাতে তুলে দিচ্ছে ৩৬ লাখ মার্কিন ডলার।

এদিকে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম বিচক্ষণ কৌশলী হিসেবে পরিচিত গুস্তাভো আলফারো। তুলনামূলক দুর্বল প্যারাগুয়ে দলকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দলে পরিণত করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ব্যাপক।

২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ইকুয়েডরকে সফলভাবে বিশ্বকাপে তুলে আনার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর চাহিদা আরও বেড়ে যায়। তাই প্যারাগুয়ে ফুটবল কর্তৃপক্ষ আলফারোর সম্মানে ২৮ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করছে ২০২৬ বিশ্বকাপে।

মেক্সিকান ফুটবলে বেশ কয়েক বছর ধরেই পরিচিত মুখ হিসেবে সুনাম রয়েছে হাভিয়ের আগিরের। এর আগে ২০০২ ও ২০১০ বিশ্বকাপেও জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

কনকাকাফ অঞ্চলের ফুটবল সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং বড় টুর্নামেন্টে চাপ সামলানোর দক্ষতার কারণেই আবারও তাঁর ওপর আস্থা রেখে ২৮ লাখ মার্কিন ডলার দিচ্ছে স্বাগতিকরা।

আক্রমণাত্মক প্রেসিং ফুটবলের প্রবক্তা জেসি মার্শের কোচিং দর্শন গড়ে উঠেছে এমএলএস, অস্ট্রিয়ান বুন্দেসলিগা ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে।

ইউরোপে বড় শিরোপা না জিতলেও তরুণ খেলোয়াড় গড়ে তোলা এবং আধুনিক কৌশল প্রয়োগে তাঁর সুনাম রয়েছে। ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে কানাডাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্যে ২৮ লাখ মার্কিন ডলার পাচ্ছেন তিনি।

২০০৬ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী ও ইতালির বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ফ্যাবিও কানাভারো এবার ডাগআউটে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উজবেকিস্তানকে।

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া দেশটির জন্য এটি অন্যতম উচ্চাভিলাষী প্রকল্প। কানাভারোর কোচিং সাফল্য সীমিত হলেও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও রক্ষণ গঠনের দক্ষতার ওপরই ভরসা করে উজবেকিস্তান তাঁকে ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার দিচ্ছে। বেলজিয়ামের ‘সোনালি প্রজন্মকে’ নেতৃত্ব দিয়ে ২০১৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান এনে দিয়েছিলেন বরেণ্য কোচ রবার্তো মার্তিনেজ।

চলতি বিশ্বকাপে তাঁর হাতে পর্তুগালের তারকাসমৃদ্ধ দলের দায়িত্ব। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যকে দলগত সাফল্যে রূপ দেওয়ার বড় চ্যালেঞ্জ নিতে তাঁকে ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার দিচ্ছে দেশটি।

২০২১ সালে চেলসিকে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানো টমাস টুখেল ইউরোপের অন্যতম সফল কৌশলী কোচ। প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইকেও তিনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তুলেছিলেন।

তাই এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড তাঁকে নিয়োগ দিয়েছে দীর্ঘদিনের শিরোপাখরা কাটানোর প্রত্যাশায়। ১৯৬৬ সালের পর আবার বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে এবার টুখেলের পেছনে ৬৫ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করছে ইংলিশ কর্তৃপক্ষ।

কনকাকাফ অঞ্চলের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত কোচিং নিয়োগ মাউরিসিও পোচেত্তিনোর যুক্তরাষ্ট্র অধ্যায়। টটেনহ্যাম হটস্পারকে ২০১৯ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি।

পরে পিএসজিতেও ঘরোয়া শিরোপা জিতেছেন। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শক্তিশালী দাবিদারে পরিণত করতে তিনি পাচ্ছেন ৬৮ লাখ মার্কিন ডলার।

২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ের পর ধারাবাহিক ব্যর্থতায় জার্মান ফুটবল নতুন দিশা খুঁজছিল। সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জুলিয়ান নাগেলসমানের কাঁধে।

বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক এই কোচ আধুনিক কৌশল, নমনীয় ফর্মেশন এবং দ্রুত রূপান্তরমুখী ফুটবলের জন্য পরিচিত। জার্মানির হারানো পরিচয় ফিরিয়ে আনতে তাঁর পেছনে ৭৯ লাখ মার্কিন ডলার খরচ করছে ডিএফবি।

পারিশ্রমিকের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি। ইউরোপিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল কোচদের একজন তিনি। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ব্রাজিলকে শিরোপা এনে দিতে ১ কোটি ১৩ লাখ মার্কিন ডলার পারিশ্রমিকে তাঁকে নিয়োগ দিয়েছে সিবিএফ।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link