নতুন বলে ভয়ানক সুন্দর মারুফ মৃধা

গত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ফ্রন্টলাইন পেসারদের একজন ছিলেন এই বাঁ-হাতি। বলা বাহুল্য, পারফরম্যান্স দিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে নিজের আগমনী বার্তা তখনি দিয়ে রেখেছিলেন। তবে ঘাটতি ছিল কিছু জায়গায়। এবার সেসব দুর্বলতা কাটিয়ে আবারো ফিরেছেন তিনি, ফিরেছেন আরো পরিণত হয়ে।

ফুলার লেন্থের ডেলিভারি, ড্রাইভ করার লোভ সামলাতে পারলেন না টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক শাহজাইব খান। কিন্তু সেই লোভ তাঁর পতন ডেকে আনলো, আউটসুইং করে বেরিয়ে যাওয়া বল কিপারের গ্লাভসে জমা হওয়ার আগে ছুঁয়ে গেলো তাঁর ব্যাট। এভাবেই ইনফর্ম একজন ব্যাটারকে ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশ যুব দলের পেসার মারুফ মৃধা।

এই একটা ডেলিভারি খেয়াল করলেই আপনি বুঝে যাবেন তাঁর গেমসেন্স। তিনি জানতেন আত্মবিশ্বাসী শাহজাইব অফ স্ট্যাম্পের বাইরে বল পেলেই শট খেলতে চাইবেন, সেটারই ফায়দা নিয়েছেন তিনি। একেবারে নিখুঁত আউটসুইংয়ে পরাস্ত করেছেন ভারতের বিপক্ষে ১৫৯ রানের অতিমানবীয় ইনিংস খেলা পাক ওপেনার।

কেবল তাঁকেই নয়, টাইগার পেসার এদিন আরেক ওপেনার উসমান খানকেও প্যাভিলিয়নের পথ চিনিয়েছেন। প্রথম ওভারেই উসমানকে সামিউন বাসিরের ক্যাচ বানান তিনি। অর্থাৎ প্রতিপক্ষের টপ অর্ডার ধসিয়ে দেয়ার কাজটা করতে তাঁর লেগেছে মাত্র দুই ওভার।

যুব এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন মারুফ। নয় ওভার বল করে পেয়েছিলেন দুই উইকেট; বিনিময়ে খরচ করেছেন মাত্র ২৫ রান, ইকোনমি ২.৮! এমন পারফরম্যান্সের পরও পরের দুই ম্যাচ বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছে তাঁকে, সেই ঝাল-ই বোধহয় মিটিয়েছেন পাক ওপেনারদের ওপর।

গত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ফ্রন্টলাইন পেসারদের একজন ছিলেন এই বাঁ-হাতি। বলা বাহুল্য, পারফরম্যান্স দিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে নিজের আগমনী বার্তা তখনি দিয়ে রেখেছিলেন। তবে ঘাটতি ছিল কিছু জায়গায়। এবার সেসব দুর্বলতা কাটিয়ে আবারো ফিরেছেন তিনি, ফিরেছেন আরো পরিণত হয়ে।

বাংলাদেশে যে পেস বিপ্লব তৈরি হয়েছে সেটার নব সংযোজন এই মারুফ মৃধারাই। ইবাদত হোসেন, তাসকিন আহমেদ থেকে শুরু করে নাহিদ রানা যে ঝান্ডা উঁচিয়ে ধরেছেন সেটা আরো উপরে তোলার জন্যই নিজেকে গড়ে তুলছেন তিনি। এখন কেবল প্রার্থনা, ইনজুরি কিংবা অন্য কোন অশুভ শক্তি যেন তাঁকে গ্রাস করতে না পারে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link