জহির, আব বাস…

একদিন করাচিতে চলছিল অনুশীলন। বাইরে থেকে দাঁড়িয়ে কাঁচা-পাকা চুলের সদ্য সাবেক হওয়া এক ভদ্রলোক অনুশীলন দেখছেন। ক’দিন আগেও তিনি চশমা পরে ব্যাট হাতে বাইশ গজে অসংখ্য বোলারের রাতের ঘুম হারাম করেছেন। আজহারউদ্দীনকে দেখে এগিয়ে আসলেন, ব্যাটিংয়ের গ্রিপটা একটু পাল্টে দিলেন। আত্মবিশ্বাসই বদলে গেল আজহারউদ্দীনের।

তখন ১৯৮৯ সাল। পাকিস্তান সফরে গেছে ভারতীয় দল। তখন, মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের ফর্মটা একটু নড়বড়ে।

একদিন করাচিতে চলছিল অনুশীলন। বাইরে থেকে দাঁড়িয়ে কাঁচা-পাকা চুলের সদ্য সাবেক হওয়া এক ভদ্রলোক অনুশীলন দেখছেন। ক’দিন আগেও তিনি চশমা পরে ব্যাট হাতে বাইশ গজে অসংখ্য বোলারের রাতের ঘুম হারাম করেছেন। আজহারউদ্দীনকে দেখে এগিয়ে আসলেন, ব্যাটিংয়ের গ্রিপটা একটু পাল্টে দিলেন। আত্মবিশ্বাসই বদলে গেল আজহারউদ্দীনের।

অনেক পরে এসে আজহারউদ্দীন বলেন, ‘যখন গ্রিপটা বদলে ফেললাম, তখন থেকেই আরো স্বস্তি পেতে শুরু করলাম। আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়ে সহজাত খেলায় ফিরলাম। ধীরে ধীরে এই ব্যাপারটা আমাকে আরো বেশি আক্রমণাত্মক ক্রিকেটারে পরিণত করল।’

সেই ভদ্রলোকটি হলেন জহির খান। সাবেক এই পাকিস্তানি গ্রেট অবিস্মরণীয় এক ক্রিকেট চরিত্র। সেটা খেলোয়াড় হিসেবে কিংবা খেলোয়াড়ী জীবন ছাড়ার পরও। ১৯৮৫ সালে তিনি মাঠের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান। ২০১৫ সালে হন আইসিসির সভাপতি। সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসির শীর্ষপদে এর আগে আসীন হতে পেরেছেন কেবল দু’জন – কলিন কাউড্রে ও ক্লাইপ ওয়ালকট।

একালের ক্রিকেট ভক্তদের কাছে তাঁর নামটা হয়তো খুবই অপরিচিত ঠেকবে। কিংবা অন্যভাবে বললে, তাঁর অর্জনগুলোর ব্যাপারে অনেকেই ওয়াকিবহাল হবেন না।

তাঁদের উদ্দেশ্যে বলা, জহির আব্বাসকে বলা হত দক্ষিণ এশিয়ান ব্র্যাডম্যান। এটা ঠিক কথার কথা নয়, তার রেকর্ডগুলো আক্ষরিক অর্থেই ছিল ব্র্যাডম্যানিয়। ১৬ বছরের ক্যারিয়ারের পুরোটাই ক্লাসিক, স্টাইল আর ফিটনেস ধরে রাখার অনন্য এক নজির।

এশিয়া মহাদেশে এই জহির আব্বাসই একমাত্র ব্যাটসম্যান যার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০০ টি সেঞ্চুরি আছে। একই প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তিনি দু’টি সেঞ্চুরি করেছেন, এমন ঘটনা ঘটেছে ৮ বার।

শততম প্রথম শ্রেণির সেঞ্চুরির মাইলফলক ছুঁয়েছেন, এমন ব্যাটসম্যান ক্রিকেটের ইতিহাসে আছেন ২৫ জন। তারপরও, আলাদা জহির আব্বাস। প্রথম শ্রেণিতে ১০৮ টি সেঞ্চুরির মালিক আব্বাস ইতিহাসের একমাত্র ব্যাটসম্যান যিনি এই ফরম্যাটে চারবার একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ডাবল সেঞ্চুরি পেয়েছেন। আর প্রতিটি ইনিংসেই ছিলেন অপরাজিত।

এটুকুতেই বোঝা যায়, সাদা পোশাকে তিনি কি প্রকাণ্ড একটা চরিত্র ছিলেন!

ওয়ানডেতেও তিনি ছিলেন বড় তারকা। তিনিই প্রথম ওয়ানডে ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা তিন ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেটা ছিল ১৯৮২ সালের ঘটনা। ওই সময় টানা সাতটি আন্তর্জাতিক ইনিংসের ছয়টিতেই তিনি সেঞ্চুরি করেন। এর মধ্যে একটা ছিল ডাবল সেঞ্চুরি।

১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে তিনি টানা ২১৫ দিন ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের র‌্যাংকিংয়ে ছিলেন শীর্ষে। ওয়ানডে ব্যাটিংয়ে তাঁর সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্ট ৯৩১। এর চেয়ে ওপরে কেবল একজনই যেতে পেরেছেন। তিনি হলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভিভ রিচার্ডস।

বলাই যায় যে, নিজের সময়ে যেকোনো ফরম্যাটে তিনি বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন জহির আব্বাস। আবার, নব্বই দশকের আগে ‘জেড’ ডাকনামের জহির আব্বাসকে বিশ্বেরই সেরা ব্যাটসম্যান বলে দেওয়া যায়।

কারণ, ১৯৯০ সালের আগ পর্যন্ত ব্যাটিং গড়ে জহির আব্বাসের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন কেবল একজনই, ওই সেই ভিভ রিচার্ডস। কমপক্ষে দুই হাজার রান করেছেন, এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে স্ট্রাইক রেটের দিক থেকে তিনি ছিলেন চতুর্থ অবস্থানে।

অধিনায়ক হিসেবে খুব অল্প কয়েকদিন কাটালেও তিনি ছিলেন সেরাদের কাতারে। যে ১৪ টি টেস্ট ম্যাচ তিনি পাকিস্তান দলকে নেতৃত্ব দেন, তাতে পাকিস্তান হারে কেবল একটিতে।

আব্বাসের প্রিয় প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ১৯ টেস্ট খেলে করেছেন ছয়টি সেঞ্চুরি, গড় ৮৭! আর ১৩ টি ওয়ানডেতে তিন সেঞ্চুরিতে করেন ৬১২ রান।

সুনীল গাভাস্কার হলেন জহির আব্বাসের সমসাময়িক। সাবেক এই ভারতীয় অধিনায়ক একবার কোনো ভাবেই যখন আব্বাসকে আউট করা যেত না, তখন ভারতীয় খেলোয়াড়রা বলতেন, ‘জহির, আব বাস কারো’। অর্থ হল, ‘জহির, এবার তো থামো!’

যদিও, ব্যক্তিজীবনে ভারতেই তিনি ‘ক্লিন বোল্ড’ হয়েছেন। আশির দশকে ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে গিয়ে রিতা লুথরা সামিনা (সামিনা আব্বাস) নামের এক ভারতীয় নারীর প্রেমে পড়েন। কানপুরের স্বরূপ নগরের এই নারীই এখন জহির আব্বাসের ঘরনী। দ্বিতীয় প্রজন্মেও ভারতের সাথে সম্পর্কটা ধরে রেখেছেন আব্বাস। তার মেয়ে সোনাল আব্বাসের বিয়ে হয়েছে দিল্লীর এক ব্যবসায়ীর সাথে।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link