রাফিনহা আপনি থামবেন কবে? অক্লান্ত ছুটে চলার শেষ টানবেন কবে? নাকি সমাপ্তি রেখা ভুলে আপনি ছুটছেন অমরত্বের দিকে – পারফরম্যান্সের গ্রাফটা অবশ্য সেটাই বলছে। নিজের নামটা ইতিহাসের পাতায় সোনালী অক্ষরে লিখে দিতে কি প্রাণান্তকর চেষ্টা করছেন, কি প্রাণান্তকর চেষ্টা করছেন জৌলুশ হারানো বার্সেলোনাকে পুনরায় রাজসিংহাসন ফিরিয়ে দেয়ার।
মার্ক আন্দ্রে টার স্টেগানের ইনজুরির পর নিয়মিত অধিনায়ক হয়ে উঠেছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান। সেই দায়িত্ববোধ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে তাঁকে, ধারাবাহিকতার শিখরে চড়েছেন তিনি। প্রতিটা ম্যাচেই দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স উপহার না দিলে হয়তো ঘুমই হয় না তাঁর।
এইতো সেভিয়ার বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, বরাবরের মতই এই উইঙ্গার বুঝিয়ে দিয়েছেন নিজের দাপট। ম্যাচের শুরুতেই তাঁর কর্নার কিক থেকে ইনিগো মার্টিনেজ বল পৌঁছে দেন রবার্ট লেওয়ানডস্কির কাছে, সেখান থেকে লিড পায় বার্সেলোনা।

এরপর তো তিনি নিজেই নাম লিখিয়েছেন স্কোরবোর্ডে, পাউ কুবার্সির নিরীহ পাসটা পেয়েই বোধহয় বিদ্যুৎ খেলে গিয়েছিল তাঁর পায়ে। চোখের পলকে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে পৌঁছে যান ফাইনাল থার্ডে, প্রায় বিশ গজ দূর থেকেই এরপর জাল কাঁপিয়ে দেন তিনি।
এই নিয়ে লিগে তেরোটা গোল করলেন রাফিনহা, নিজের ক্যারিয়ারে এর আগে কখনোই এক মৌসুমে এতগুলো লিগ গোল করেননি তিনি। এমনকি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়েও কোন মৌসুমে ১৩টা গোল করতে পারেননি – পার্থক্যটা আসলেই অবিশ্বাস্য; এ যেন নতুন রাফিনহা।
গোলের সাথে সাথে সমানতালে অ্যাসিস্টও করে যাচ্ছেন সাম্বা বয়। অর্থাৎ তিনি কেবল গোল করার দিকেই মনোযোগী নন, নিচে নেমে খেলার মোমেন্টাম বদলে দিতেও পারদর্শী। এমন অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সই বার্সাকে শিরোপার লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছে।

এই তারকা আসলে ব্লাউগানা জার্সিটাকে একান্ত নিজের মনে করেন, একেবারে মনের গোপনে লুকিয়ে রাখা ভালবাসার মতই যত্ন করেন। মাঠে তাঁর প্রতিটা মুভমেন্ট সেই গোপন ভালবাসার কথা বলে।










