গান্ধীজি বলেছিলেন, কেউ চড় মারলে আরেক গাল পেতে দিতে। কিন্তু শ্রেয়াস আইয়ার বরং জীবনের চপেটাঘাতের একটা পালটা জবাব দিতে চাইলেন। ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’ গানটাকে এবার তার ক্যারিয়ারের টার্নঅ্যারাউন্ডের সাথেও জুড়ে দেওয়া যায়।
ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি অনুপস্থিত থাকেন। এই দোষে তাকে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া-এর কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয়। একজন ক্রিকেটারের আয়ের স্থিতিশীল উৎস হচ্ছে সেই কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে প্রাপ্ত পারিশ্রমিক। সেখানেই থেমে থাকেনি শ্রেয়াসের উপর জীবন চক্রের আঘাত।
ক্রিকেটটা তো পারফরমিং আর্ট, যতক্ষণ পারফরম করছেন ততক্ষণ বাকি সব দোষ মাফ। কিন্তু শ্রেয়াস ওই সময়টায় পারফরমও করতে পারছিলেন না। অগ্যতা ভারতের টি-টোয়েন্টি দল থেকে ছিটকে যান তিনি। এরপর টেস্ট থেকেও বাদ পড়েন তিনি।

একের পর এক আঘাতে বিমর্ষ হয়ে পড়ার কথা ছিল শ্রেয়াসের। কিন্তু না, তিনি উঠে দাঁড়ালেন, পালটা আঘাতের সিদ্ধান্ত নিলেন। আর এরপর থেকেই রুপকথার মত বদলে যেতে থাকে সবকিছু। মাত্র বছর খানেকের মধ্যেই তিনি ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির যাত্রার অন্যতম সেনানিতে রুপান্তরিত হয়েছেন। ওই যে পারফরমিং আর্টে পারফরম করেই তবে তিনি যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
সর্বশেষ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে তিনি ৩৫১ রান করেন ব্যাট হাতে। শুধু তাই নয়, নেতৃত্বগুণে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে শিরোপাও জিতিয়েছেন। যেই ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা নিয়ে তার প্রতি কঠোর হয়েছিল বিসিসিআই, সেখানেও রানের বন্যা বইয়ে দিলেন।
৪৮০ রান করেছেন রঞ্জি ট্রফিতে। বিজয় হাজারে ট্রফিতে তার রান ৩২৫। এখানে তার গড়টা কত জানেন? ওই ৩২৫ গড়েই তিনি রান করেছেন। মানে প্রায় প্রতিটা ম্যাচেই তিনি অপরাজিত থেকেছেন। ওয়ানডে ফরম্যাটের এই টুর্নামেন্ট দিয়েই প্রত্যাবর্তনের জানানটা দিলেন জোরেসোরে।

এরপর সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতেও তার ব্যাটে বিপুল রান শোভা পেয়েছে। ৩৪৫ রান করে মুম্বাই রাজ্য দলকে চ্যাম্পিয়নশীপও জিতিয়েছেন তিনি। বিগত বছরে দুই খানা শিরোপা জিতেছেন তিনি। ঠিক এ কারণেই তো আইপিএল নিলামে চড়া দামে বিক্রি হয়েছেন শ্রেয়াস আইয়ার। কিন্তু সেটাই তো তার মূল লক্ষ্য ছিল না।
তিনি জাতীয় দলে প্রচণ্ড প্রতাপের সাথে ফিরতে চাইলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে বিরাট কোহলির ইনজুরিতে একটা সুযোগ পেলেন। ওয়ানডে সিরিজটা খেলতে নেমেই তিনি ফিফটি হাঁকালেন। ব্যাস! চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির রাস্তায় যতটুকু প্রতিবন্ধকতা ছিল তার সবটুকুই খুলে গেল।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মঞ্চে এসেও শ্রেয়াস নিজের রানের ধারা রেখেছেন অব্যাহত। দু’খানা ফিফটিতে তিনি ১৯৫ রান করেছেন, ৪৮.৭৫ গড়ে। দলের মিডল অর্ডারে একটা দারুণ স্থিতিশীলতা এনে দিয়েছেন তিনি। আর ঠিক সে কারণেই বিসিসিআই-এর কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও তার ঠাই হয়ে গেল। মাত্র দুই বছরের মধ্যে জীবনকে ৩৬০ ডিগ্রি পালটে দিলেন শ্রেয়াস। কি অভাবনীয় মানসিকতা! কি দুর্দমনীয় চরিত্র!












