চট্টগ্রামের স্থানীয় ক্রিকেটে নজিরবিহীন এক ঘটনায় কেঁপে উঠেছে পুরো অঙ্গন। সিসিএল চ্যালেঞ্জ কাপের একটি ম্যাচে টানা সাত বলে সাত ব্যাটসম্যানের হিট উইকেটের শিকার হওয়ার অস্বাভাবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবশেষে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সিজেকেএস ক্লাব সমিতি।
ঘটনার সূত্রপাত বাকলিয়া একাদশ ও ক্রিসেন্ট ক্লাবের ম্যাচে। অনিবন্ধিত এক ক্রিকেটারকে ঘিরে বিতর্কের জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাকলিয়া একাদশ। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দলটি অদ্ভুত উপায়ে প্রতিক্রিয়া জানায়—একের পর এক সাত ব্যাটসম্যান ইচ্ছাকৃতভাবে হিট উইকেট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। মাঠে তৈরি হয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি, যা প্রশ্ন তোলে ক্রিকেটের শৃঙ্খলা ও স্পিরিট নিয়ে।
এই ঘটনার তদন্ত শেষে সিজেকেএস ক্লাব সমিতি কঠোর অবস্থান নেয় এবং তিনটি বড় শাস্তির ঘোষণা দেয়। ইচ্ছাকৃতভাবে হিট উইকেট আউট হওয়া বাকলিয়া একাদশের সাত ক্রিকেটারকে এক বছরের জন্য সব ধরনের সিজেকেএস আয়োজিত টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ক্রিকেটাররা হলেন — সাকিব হোসেন, ওয়ারদুল আলম, তির ধর, ওমর ফারুক, নাজমুল ইসলাম, মাহির আনোয়ার ও মোহাম্মদ ইকবাল। তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে তারা কোনো লিগ বা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে না পারেন।
রেজিস্ট্রেশন ছাড়া খেলায় অংশ নেওয়া ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইভান রায়হানকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আরও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। খেলোয়াড়দের এমন কর্মকাণ্ডে প্ররোচনা এবং অসদাচরণের অভিযোগে কোচ আমিনুল হককে পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সিজেকেএসের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি ম্যাচ নয়—এটি ক্রিকেটের মৌলিক নীতিমালা ও স্পিরিট অব ক্রিকেট-এর সরাসরি লঙ্ঘন। খেলাকে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রভাবিত করা, কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার কারণে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Share via:










