ড্রেসিং রুমের টানেলে বিষন্ন বদনে দাঁড়িয়ে থাকা, এরপর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গোলের পর গোল করে উৎসবের উৎসাহে মাতোয়ারা। একই মৌসুমে কিলিয়ান এমবাপ্পে দেখে নিলেন নিজের দুই ভিন্ন রুপ। শুভ্র জার্সির মায়ায় যে প্রত্যাবর্তনের রুপকথার লেখার রসদ থাকে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পাশে বসে সে উপলব্ধিটাই এখন হচ্ছে যেন এমবাপ্পের।
শত প্রতীক্ষা, হাজার অপেক্ষা, তিন-চার বারের নাটকীয়তা- এসব কিছুর অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কিলিয়ান এমবাপ্পে গায়ে জড়ান রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি। ফ্রান্স থেকে স্পেন, প্যারিস থেকে মাদ্রিদ নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে বেজায় ধুকতে হয়েছে ফরাসি এই তারকাকে।
গোল মিসের মহড়া, মাঠে একেবারে নিষ্ক্রিয় থাকা, বারংবার বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা- সবকিছু মিলিয়ে এমবাপ্পে ছিলেন ছন্নছাড়া। কিন্তু সময় গড়িয়েছে, বাড়িয়েছে মায়া, সফেদ জার্সিতে নিজেকে প্রমাণের তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাকে আষ্টেপৃষ্টে ধরে। এরপর থেকেই দিন বদলের শুরু, ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের আক্রমণের অন্যতম কাণ্ডারি এখন তিনি।

অথচ শুরুতে তিনি মানিয়ে নিতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছেন। প্রতিদ্বন্দী ভক্তরা তখন অবশ্য মাদ্রিদকে টিপ্পনি কেটেছে- ‘নকল এমবাপ্পে ধরিয়ে দিয়েছে’- এমন সব মন্তব্যে খেপিয়ে তুলতে চেয়েছে মাদ্রিদিস্তাদের। কিন্তু সকল সমালোচকদের মুখে কুলুপ এঁটে দিচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
এখন অবধি রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ৩৩ খানা গোল তিনি করে ফেলেছেন। লস ব্ল্যাঙ্কোসদের হয়ে অভিষেক মৌসুমে এর আগে ৩৩ খানা গোল করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এমবাপ্পের সামনে সুযোগ আছে রোনালদোকে ছাপিয়ে যাওয়ার। অবশ্য তিনি চাইলে ইভান জামোরানোকেও পেছনে ফেলে উঠে যেতে পারেন শীর্ষে। আর তো মোটে চার খানা গোল চাই।
যেই ছন্দ, যেই গোলের ক্ষুধা আর নিজেকে প্রমাণের যেই স্পৃহা এমবাপ্পেকে পেয়ে বসেছে, তাতে করে নির্দ্বিধায় বলে দেওয়া যায় এমবাপ্পে এখানেই থামছেন না। মাদ্রিদের ইতিহাসে তিনি জায়গা করে নিতেই এসেছেন। শুরুর সকল বিষাদের ধূসরতা ঝেড়ে তিনি এখন সব বর্ণিল সব অধ্যায়ের কারিগর হবেন। বার্নাব্যু তো এমন এমবাপ্পেকেই চেয়েছিল।












