অ্যান্টনির চোখে অবিশ্বাসের অশ্রু

১০০ মিলিয়নের চর্কা, গরিবের সর্বকালের সেরা- কতশত বিচ্ছিরি ট্রলে ছেয়ে ছিল তার জীবন।

অশ্রুসিক্ত নয়ন। মনের ভেতরটায় সম্ভবত তীব্র অবিশ্বাস। অ্যান্টোনি হয়ত ভাবছেন –  ‘এ আমি কোন আমি?’ নিজেকে যেন নতুন রুপে আবিষ্কার করতে শুরু করেছেন অ্যান্টনি। দম বন্ধ করা পরিবেশ থেকে বেড়িয়ে এসেছেন যেন। এখন বুক ভরে শ্বাস নিচ্ছেন। তাজা অক্সিজেনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে তার পারফরমেন্সেও।

চোখ ধাঁধানো এক ফ্রিকিক গোলে তিনি রিয়াল বেতিসকে তুলেছেন কনফারেন্স লিগের ফাইনালে। এরপরই যেন তার বুক থেকে একটা দীর্ঘদিনের জমা পাথর নেমে গেল। মৌসুমের মাঝপথে ইংল্যান্ড থেকে স্পেনে এসেছেন। নিজেকে ফিরে পাওয়ার অন্বেষণে তিনি রয়েছেন সঠিক পথেই।

রিয়াল বেতিসের হয়ে আটটি গোল করে ফেলেছেন। উয়েফা কনফারেন্স লিগে চার খানা, লা লিগায় চার খানা। এছাড়া পাঁচটি গোল করিয়েছেন তিনি সতীর্থদের দিয়ে। কিন্তু এই মৌসুমেরই প্রথমভাগে তিনি ছিলেন শুধু ট্রলের পাত্র হয়ে। না ছিল গোল, না ছিল কোন অ্যাসিস্ট।

থাকবেই বা কি করে! তার যে আত্মবিশ্বাস ছিল তলানিতে। ১০০ মিলিয়নের ট্যাগ গায়ে লেপ্টে তিনি আয়াক্স থেকে এসেছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। ঐতিহ্যবাহী ক্লাব, বড় ক্লাব, নিজের ক্যারিয়ারকে দেবেন আলাদা মাত্রা- এমন সব ভাবনাই ছিল হয়ত তার মস্তিষ্কে। কিন্তু হয়েছে ঠিক উলটোটা।

১০০ মিলিয়নের চর্কা, গরিবের সর্বকালের সেরা- কতশত বিচ্ছিরি ট্রলে ছেয়ে ছিল তার জীবন। ইংলিশ ক্লাবের অন্দরমহলেও সেসব ট্রলের প্রভাব যে পড়েনি- তা বলার তো উপায় নেই। একটা সম্ভাবনার প্রদীপ নিভে যেতে শুরু করে। তার ক্যারিয়ার যখন প্রায় সমাহিত হওয়ার পথে, ঠিক সেই মুহূর্তে হাত বাড়িয়ে তাকে যেন দ্বিতীয় জীবন দিল রিয়াল বেতিস।

রেড ডেভিলদের কাছ থেকে ধারে তাকে নিয়ে এলো ক্লাবটি। জার্সির রঙ পালটে গেল। রক্তিম সেই জার্সির ভার নেমে গেল অ্যান্টোরির কাঁধ থেকে। সবুজ-সাদা জার্সিতে যেন ফাগুনের হাওয়া লাগে তার মনে। এক্ষেত্রে ক্লাবও নিশ্চয়ই তাকে সেই ভরসার জায়গাটুকু দিয়েছে। কাঁধে হাত রেখে বলেছে- ‘তুমি ততটাও খারাপ নও, তুমি পারবে।’

ব্যাস! ততটুকু ভরসার হাত অ্যান্টোনির জন্যে পরশ পাথর। তিনি ফের নিজের সামর্থ্যকে বিশ্বাস করতে লাগলেন। তিনি আবার মাঠে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে লাগলেন। তার ক্যারিয়ার পেয়ে গেল আরও একটি লাইফলাইন। আর দ্বিতীয় জীবন পাওয়া অ্যান্টোনি পুরোটা কাজে লাগাতে চাইছেন নিজেকে উজাড় করে।

বিশ্ব ফুটবলের বিস্তৃত ভুবনে তিনি নিজের একটা অস্তিত্বের ছাপ ফেলে যেতে পারবেন- সে বিশ্বাসটুকু তার ফের জন্মেছে। আর বাংলায় এক প্রবাদ রয়েছে- বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link