সাদাকাতের টি-টোয়েন্টি ঘরনার ব্যাটিং তাণ্ডব মিরপুরের বাইশ গজে

নির্ভীক এক প্রলয়ের দেখা মিলল মিরপুরের বাইশ গজে। আগের দিনের ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে মাজ সাদাকাত দেখালেন নিজের আসল রুপ।

নির্ভীক এক প্রলয়ের দেখা মিলল মিরপুরের বাইশ গজে। আগের দিনের ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে মাজ সাদাকাত দেখালেন নিজের আসল রুপ। তরুণ এই ব্যাটারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে এদিন দিশেহারা হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট।

ওয়ানডে ক্রিকেটও যে বদলে গেছে, সেটাই যে আরও একটিবার মনে করিয়ে দিলেন মাজ সাদাকাত। পাকিস্তানের হয়ে ওপেনিং করতে নেমে তিনি খেলেন প্রায় ১৬৩ স্ট্রাইকরেটের ইনিংস। রীতিমত টি-টোয়েন্টি ঘরনার ব্যাটিংটাই তিনি করে গেছেন একটা প্রান্ত থেকে। আরেকপ্রান্তে খানিকটা টিমটিম করে জ্বলছিল শাহিবজাদা ফারহান নামক প্রদীপ।

সাদাকাতের প্রতাপের সামনে ফিকে হয়ে গিয়েছিল বিশ্বকাপ মাতানো ব্যাটারের সংগ্রাম। নাহিদ রানার গতিশীল বাউন্সারও এদিন মাজ সাদাকাতকে টলাতে পারেনি। গত ম্যাচে ফাইন লেগে ক্যাচ আউট হয়েছিলেন নাহিদের বাউন্সারে। এদিন তেমন ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হলেও তিনি সেসব বলে খেলেছেন ভীষণ মাপা সব শট। হয় ছক্কা হয়েছে, নতুবা পৌঁছায়নি ফিল্ডারের কাছাকাছি।

দ্রুততার সাথে ভুল শুধরে নিয়ে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে তিনি এলোমেলো করে দেন বাংলাদেশের বোলিং ইউনিটকে। ১০৩ রানের জুটি গড়েছিলেন তিনি শাহিবজাদা ফারহানের সাথে। সেই জুটিতে ৪৬ বলে ৭৫ রান এসেছিল সাদাকাতের ব্যাট থেকে। ফারহান করেন ৩৩ বলে ২১ রান।

সাদাকাত পাঁচ ছক্কা ও ছয়টি চারে ভেলায় ভেসে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ব্যক্তিগত শতকের দিকে। ওয়ানডে অভিষেকের সিরিজটিতে সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ফেললে মন্দ হতো না কোন অংশে। তবে তাকে থামতে হয়েছে। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্কুপ করতে গিয়ে তিনি আউট হয়েছেন লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে।

তবে তার ওই আক্রমণাত্মক টি-টোয়েন্টি ঘরনার ইনিংসটি পাকিস্তানের ব্যাটারদেরকে দিয়েছে বড় রানের আত্মবিশ্বাস। দ্রুততার সাথে রান তুলে দলের পরবর্তী ব্যাটারদের চিন্তাভাবনা করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন, পাশাপাশি হিসেব কষা ঝুঁকি নেওয়ার ঐ জায়গাটুকু সৃষ্টি করে দিতে পেরেছেন। এছাড়াও দলকে ৩০০ ছাড়ানো লক্ষ্যের ভীতটাও গড়ে দিয়েছেন মাজ সাদাকাত।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link