এক সিদ্ধান্তেই শেষ শচীনে অনবদ্য ক্যারিয়ার!

২০১২ সাল। সময়টা যেন ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছিল। এক সময় যার ব্যাটে ভর করেই দাঁড়িয়ে থাকত ভারতীয় ক্রিকেট, সেই শচীন টেন্ডুলকার তখন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন মোড়ে দাঁড়িয়ে।

২০১২ সাল। সময়টা যেন ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছিল। এক সময় যার ব্যাটে ভর করেই দাঁড়িয়ে থাকত ভারতীয় ক্রিকেট, সেই শচীন টেন্ডুলকার তখন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন মোড়ে দাঁড়িয়ে।

এক বছর আগেই পূরণ করেছিলেন জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন, জিতেছিলেন ২০১১ বিশ্বকাপ।    গোটা দেশ উদযাপন করেছিল সেই মুহূর্ত। কিন্তু বিশ্বকাপের সেই সোনালি স্মৃতির পর যেন ধীরে ধীরে নিভে যেতে থাকে কিংবদন্তির আলো।

ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরে আটটি টেস্টে তিনি করেছিলেন ৫৬০ রান, চারটি অর্ধশতক থাকলেও ভারতের জন্য সেটি ছিল দুঃস্বপ্নের সিরিজ—দুই সফরেই ০–৪ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের শততম সেঞ্চুরির চাপও তখন ক্রমশ বাড়ছিল।

এরপর যখন ইংল্যান্ড ভারতের মাটিতেই সিরিজ জিতে নেয়, তখন পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। সেখানে চার টেস্টে মাত্র ১১২ রান করেন শচীন, গড় ছিল মাত্র ১৮.৬। যেন ব্যাটের জাদুটা কোথায় হারিয়ে গেছে।

ড্রেসিংরুমও তখন বদলে যাচ্ছে। একে একে বিদায় নিয়েছেন দীর্ঘদিনের সঙ্গীরা— সৌরভ গাঙ্গুলি, রাহুল দ্রাবিড় এবং ভিভিএস লক্ষ্মণ। ভারতীয় ক্রিকেটের সেই সোনালি যুগের স্তম্ভগুলো একে একে সরে যাচ্ছিলেন মঞ্চ থেকে।

তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন—পরবর্তী নামটা কি শচীন? ঠিক তখনই আসে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ভারতের নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান সন্দীপ পাটিল সিদ্ধান্ত নেন সরাসরি কথা বলার। নাগপুর টেস্টে হারের পর সহ-নির্বাচক রাজেন্দ্র সিং হান্স-কে নিয়ে তিনি দেখা করেন শচীনের সঙ্গে।

সেই সাক্ষাতে পাটিলের প্রশ্ন ছিল সোজাসাপ্টা, ‘আপনার পরিকল্পনা কী?’ ভারতীয় ক্রিকেটের ‘গড’ বলে যাকে মানা হয়, সেই মানুষটি প্রশ্নটা শুনে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, “কেন?”

পাটিল তখন জানালেন নির্বাচকদের ভাবনা। দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হবে, নতুনদের সুযোগ দিতে হবে। কথাটা শুনে শচীন নাকি আবার ফোন করেছিলেন পাটিলকে, ‘আপনি কি সত্যিই সিরিয়াস?’

পাটিলের উত্তর ছিল একই, হ্যাঁ, নির্বাচকরা সত্যিই এটা ভেবেছেন।মজার বিষয়, সেই আলোচনার সময় শচীন স্পষ্টই বলেছিলেন—তিনি খেলতে চান। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই বদলে যায় সবকিছু।

২০১২ সালের শেষ দিকে হঠাৎ করেই ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেন শচীন টেন্ডুলকার। সিদ্ধান্তটা ছিল অনেকের কাছেই বিস্ময়কর।

তবে টেস্ট ক্রিকেট তখনও ছাড়েননি তিনি। ২০১৩ সালে বর্ডার গাভাষ্কার ট্রফি তে ভারত অস্ট্রেলিয়াকে ৪–০ ব্যবধানে হারালেও শচীনের ব্যাটে আর সেই পুরোনো ঝলক দেখা যায়নি।

এর কিছুদিন পর আইপিএল থেকেও বিদায় নেন তিনি। আর শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে  ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিপক্ষে বিদায়ী সিরিজ খেলেই থেমে যায় এক মহাকাব্যিক ক্যারিয়ার।

২৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৩৪ হাজারেরও বেশি রান, ১০০টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি এবং ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ২০০ টেস্ট খেলার রেকর্ড, সংখ্যাগুলোই বলে দেয় তাঁর মহত্ত্ব। তবে পরিসংখ্যানের বাইরেও শচীন টেন্ডুলকার মানে ছিল একটা যুগ, একটা আবেগ, একটা বিশ্বাস।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link