আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিভার অভাব কখনোই ছিল না ইংল্যান্ড দলে। তবে সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন পড়ে এমন কিছু ক্রিকেটারের, যারা শুধু নির্দিষ্ট একটি ভূমিকায় নয়, বরং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী অবদান রাখতে পারে। ঠিক তেমনই এক আবিষ্কার জ্যাকব বেথেল।
ইংলিশ মিডিয়া তাকে আখ্যা দিচ্ছে আধুনিক ক্রিকেটের সেরা প্রতিভা হিসেবেই। তবে এটাকে বাড়াবাড়ি বলার উপায় নেই। টেস্টে ব্যাটিং পজিশনটা তিন নম্বরে। তবে ওয়ানডেতে খেলেন দলের প্রয়োজনে। কখনো চার নম্বর, কখনো পাঁচ, ছয় কিংবা সাত নম্বরে ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে পড়েন বেথেল। এমনকি টি-টোয়েন্টিতেও ওপেন করেছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের জার্সি গায়ে।
চলমান ইংল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও দেখিয়েছেন নিজের ঝলক। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ছয় নম্বরে ব্যাটিং করে ৫৩ বলে ৮২ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলেন। আটটি চার এবং পাঁচ ছক্কায় সাজানো ইনিংসে ভর করে ইংল্যান্ড সংগ্রহ পায় ৪০০ রান।

শুধু ব্যাট নয়, বল হাতেও নিজের অস্তিত্বের জানান দিয়েছেন, নিয়েছেন একটি উইকেট। আর ইংল্যান্ড ২৩৮ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায়, ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার ওঠে বেথেলের হাতেই।
বয়সটা সবে ২১ বছর। ইতিমধ্যেই ইংল্যান্ড দলের হয়ে অভিষেক করেছেন তিন ফরম্যাটেই। খেলেছেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের মঞ্চেও, সেখানেও দেখিয়েছেন নিজের সক্ষমতা।
তার ইনিংস গঠনের ধরনে রয়েছে ঠাণ্ডা মাথার চিন্তা, রয়েছে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে বদলে নেওয়ার ক্ষমতা। কখনো রানের গতি বাড়ানো, কখনো উইকেট আঁকড়ে ধরা—সবকিছুই তিনি করছেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। তার ব্যাটিং স্টাইলের মধ্যে যেন খুঁজে পাওয়া যায় আধুনিক আর ক্লাসিক ক্রিকেটের এক মিশেল।

ইংল্যান্ড দল বর্তমানে তরুণদের নিয়ে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। আর সেখানে জ্যাকব বেথেলকে ঘিরে প্রত্যাশা বেড়েই চলেছে। ব্যাটিং অর্ডারে যে লাক্সারি এনে দিচ্ছেন বেথেল তা তাকে অন্যদের থেকে এগিয়েই রাখবে।
বর্তমানে যেভাবে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন, তাতে করে বলা যেতেই পারে—ইংল্যান্ড দলে নতুন এক তারকার আবির্ভাব ঘটেছে, দলের প্রয়োজনে যিনি যেকোনো জায়গায় ফিট।











