অবিশ্বাস্য ক্যাচে ম্যাক্সওয়েলকে ফেরালেন পাথুম নিসাঙ্কা

রীতিমত ছো মেরে বলটা করেছেন তালুবন্দী। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মত একজন ব্যাটারকে আউট করতে প্রয়োজন ছিল এমন কিছু একটা।

দুর্ধর্ষ, চোখ ধাঁধানো, অবিশ্বাস্য। পাথুম নিসাঙ্কা পয়েন্টে দাঁড়িয়ে লুফে নিলেন এক অভাবনীয় ক্যাচ। তিনি যেন বনে গিয়েছিলেন তীক্ষ্ম এক শিকারি। রীতিমত ছো মেরে বলটা করেছেন তালুবন্দী। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মত একজন ব্যাটারকে আউট করতে প্রয়োজন ছিল এমন কিছু একটা।

পালেকেল্লেতে মুখোমুখী শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়া। দুই দলের জন্যই ম্যাচটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এমন ম্যাচে মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেডের দু’টো হাফসেঞ্চুরিতে দারুণ শুরু অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় দ্রুত কিছু উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরে শ্রীলঙ্কা। যদিও অস্ট্রেলিয়ার ভীত তখনও ছিল বেশ শক্তপোক্ত। শেষের চার ওভারে হাতখুলে খেলাই ছিল গ্লেন ম্যাক্সওয়েলদের ব্রত।

ইনিংসের ১৭ তম ওভারের প্রথম বল। দুশান হেমন্তাকে অপ্রস্তুত করে দিতে ম্যাক্সওয়েল খেললেন রিভার্স সুইপ। বলটা পয়েন্ট অঞ্চল দিয়ে ত্রিশগজ অতিক্রম করতে পারলেই বাউন্ডারি নিশ্চিত। কিন্তু পাথুম নিসাঙ্কা তেমনটি আর হতে দিলেন না। বাতাস চিড়ে এগিয়ে যাওয়া বলটাকে নিজের আয়ত্বে নিলেন নিসাঙ্কা।

ডানহাতি পাথুম লাফ দিলেন নিজের বাম দিকে। একেবারে নিজের শরীরকে ছুড়ে দিলেন হাওয়ায়। শূন্যে ভেসে তিনি বাড়িয়ে দিলেন দুই হাত। একেবারে যেন শক্তিশালী কোন এক চুম্বকের ন্যায় বলটি আটকে গেল পাথুমের হাতে। এমন অবিশ্বাস্য কিছু করে ফেলবেন নিসাঙ্কা সেটা নিশ্চয়ই ভাবেনি কেউ।

চোখের পলকে নিজের জায়গা থেকে খানিকটা সরে গিয়ে, হাওয়ার উপর শরীরকে ছুড়ে ফেলা মোটেও চাট্টিখানি কথা নয়। নিসাঙ্কা তাই করে দেখালেন। তখন অস্ট্রেলিয়ার দলীয় রান ১৬০। কিন্তু নিসাঙ্কা যদি সেই চক্ষু ছানাবড়া ক্যাচটা না লুফে নিতেন, তবে একটা বাউন্ডারি যোগ হয়ে অজিদের রান হতো ১৬৪। সেই শট আত্মবিশ্বাসী করে তুলত ম্যাক্সওয়েলকে। এরপর তিনি যে ধ্বংসলীলা চালাতেন- তা আর না বলে দিলেও চলছে।

এমন গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যাটারকে ফেরাতে দৃষ্টিনন্দন, দুর্ধর্ষ কিছু একটা করা অবধারিত। পাথুম নিসাঙ্কা সেই বিষয়টি আবারও ফুটিয়ে তুললেন নিজেকে উজাড় করে দিয়ে। একটি ক্যাচ, অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহকে দারুণভাবে প্রভাবিত করল। ১৫ বলে ২২ রান করা ম্যাক্সওয়েল টিকে গেলে অজিদের সংগ্রহ যে ২০০ ছাড়াতো অনায়াসে।

Share via
Copy link