বলকে রীতিমত চপেটাঘাত করছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। চাবুকের মত ব্যাট চালিয়ে বলকে বাউন্ডারি ছাড়া করেছিলেন তিনি। হুট করেই যেন ছন্দপতন। আগ্রাসনের ভারসাম্য ধরে রাখতে গিয়ে, ভুল শটে আউট হয়ে ফিরলেন। নামের পাশে থাকে ৬৬।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ সর্বত্রই চলেছে ইমনের ব্যাট। এরপর আবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি। রানের অবারিত ধারা নিয়ে তিনি খেলতে নেমেছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও। তবে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে একেবারে উলটো চিত্র।
দুই ম্যাচে সর্বোচ্চ আট রান এসেছিল তার ব্যাটে। কিন্তু তার সামর্থ্য যে নয় ততটুকু। বিষাদের অভয়ারণ্যে দাঁড়িয়ে তিনি এক চিলতে সূর্যালোক হতে চাইলেন। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে জ্বলে উঠল ইমনের ব্যাট। নান্দনিক সব শটের পসরা সাজিয়ে দ্রুততার সাথেই তিনি বাড়িয়েছেন দলের সংগ্রহ।

প্রায় ১৯৪ স্ট্রাইকরেটে চলেছে তার ব্যাট। স্রেফ ৩৪ বল খরচায় ৬৬ রান করেছেন তিনি। যার মধ্যে চারটি সুবিশাল ছক্কা ও সাতটি চার স্থান পেয়েছে। এমন আগ্রাসনের ধারাতের তাকে রীতিমত অভেদ্য মনে হচ্ছিল। কিন্তু যেই মাত্র তানজিদ হাসান তামিম আউট হলেন, সেই মুহূর্তেই যেন ইমনের মনোযোগের ঘাটতি ঘটে।
শট চালিয়ে বল তুলে দেন সোজা আকাশ পানে। নিজের উপর ক্ষোভ ঝাড়তে ঝাড়তে তিনি মাঠ ছাড়েন। অন্যদিকে পাকিস্তান হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। ইমন ও তামিমের ১১০ রানের জুটি ভাঙার পাশাপাশি দুই সেট ব্যাটারকেও যে প্যাভিলিয়নে পাঠানো গেছে। ইমন আরেকটু সময় থাকতে পারলেই ঘাম গড়িয়ে পড়তে সালমান আলী আঘদের কপাল বেয়ে।
কিন্তু ইমন পারলেন না পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সেই স্নায়ুচাপে ফেলতে। এখানেই বরং বারংবার বাংলাদেশের সাথে তফাৎ সৃষ্টি হয়। দারুণ ইনিংসকে যে তারা বড় ইনিংসে রুপান্তরিত করতে পারেন না। সে কারণেই ইমনদের সম্ভাবনা কুপি বাতির মত একদিন নিভে যায় জ্বালানির অভাবে।












