শর্ট বলে মুশফিকুত রহিমের বিশেষ দুর্বলতা নেই। তবে, ইনকামিং ড্রলিভারিতে তিনি আগেই ফ্রন্ট ফুট প্লান্ট করে দেন। যার কারণে ফাস্ট বোলারদের বিপক্ষে বোল্ড কিংবা এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়েন হরহামেশাই। হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা বলে পুল করতে গিয়ে টপ এজ হন। উইকেট উপহার দিয়ে আসেন।
গল টেস্টের আগে নিজের এই খামতি পুষিয়ে নিতে মরিয়া মুশফিকুর রহিম। নেটে নিজের অনুশীলন শেষে থ্রোয়ারকে সাথে নিয়ে পাশেই অনুশীলন চালিয়ে গেলেন। ব্যাক অ্যাক্রোস শাফলের চেষ্টা করে গেলেন বারবার। সামনের পা যাতে আগেই প্লান্ট না হয়ে যায় সেজন্য বারবার চেষ্টা করে গেলেন।
মানুষ অভ্যাসের দাস। মুশফিকুর রহিম নিজে থেকে চাইছেন নিজের হাজার বছরের পুরনো ভুল শুধরে নিতে। চাইছেন নিজের অভ্যাস পাল্টাতে। তিনি পরিশ্রমী, তাইতো চাইলে এই বয়সে এসেও চাইলে নিজে টেকনিকের ঘাটতি দূর করা সম্ভব। হ্যা, ৩৮ বছর বয়সেও সম্ভব।

বাংলাদেশ প্রথমবারের মত পূর্ণাঙ্গ শ্রীলঙ্কা সফরে এসেছে সাকিব আল হাসান আর তামিম ইকবালকে ছাড়াই। ফলে দলে সিনিয়র বলতে আছেন এক মুশফিকুর রহিম। যদিও, সাম্প্রতিক সময়ে মুশফিকের সময় ভাল যাচ্ছে না একদমই।
পাকিস্তানের বিপক্ষে গেল বছরের আগস্টে ১৯১ রানের ইনিংস খেলেন। এরপর, ১৩ ইনিংসে কোনো রান নেই, কোনো হাফ সেঞ্চুরি নেই। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪০ রান করে ফেরার আভাস দিলেও এরপর রান আউটেত ফাঁদে পড়েন।
সম্প্রতি ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানানো মুশফিকের জন্য এখন টেস্ট ক্রিকেটটাই সম্বল। সেই যাত্রায়, টেকনিক শুধরে নেওয়া খুলে দিতে পারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। কে জানে, নিজেকে পাল্টালে মুশফিকের ক্যারিয়ারের যাত্রা বছর দুয়েকের জন্য বাড়তেও পারে।

অনুশীলনে দলের প্রাণ ভোমরা ছিলেন মুশফিক। নিজের গো-টু শট স্যুইপটাও আবার ঝালিয়ে নিলেন। স্পিনের বিপক্ষে এটাই মুশফিকের অব্যর্থ অস্ত্র। নেটে যখন ব্যাট করছিলেন, বাইরে তখন বাংলাদেশি ট্যুরিস্টদের ভিড়। কে যেন, মুশফিক বলে চিৎকার করলেন। মুশফিক পাত্তা দিলেন, আপাতত বাংলাদেশের ডাকটাই কেবল শুনছেন তিনি।










