কলম্বোর সন্তান সোনাল দিনুশা — শ্রীলঙ্কার নতুন আশার আলো। আর ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার আশার আলোদের আবিষ্কার হয় স্কুল ক্রিকেটে।
কলম্বোর মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে অভিষেক হলো প্রতিভাবান অলরাউন্ডার সোনাল দিনুশার। শ্রীলঙ্কার টেস্ট দলে এক নতুন সূর্যোদয়।
দেশটির ঘরোয়া ক্রিকেটে যিনি ইতোমধ্যেই নিজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের ছাপ রেখেছেন, এবার তাঁর মঞ্চ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। খোদ অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি।

কিংবদন্তিতুল্য ম্যাথুসের বিদায়ের পর শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল যেন এক শূন্যতার মাঝে দাঁড়িয়ে ছিল। সেই শুন্যস্থান পূরণে আসেন সোনাল দিনুশা। একজন অভিজ্ঞ সৈনিকের প্রস্থান, আর একজন তরুণ যোদ্ধার আগমন — এ যেন প্রজন্মান্তরের হাতবদল।
উইকেটরক্ষক ব্যাটার কুশল মেন্ডিস দিনুশার মাথায় টেস্ট ক্যাপ পরিয়ে দেন। আর এর মধ্য দিয়ে আরেকটবার জয় হল শ্রীলঙ্কান স্কুল ক্রিকেটের।
কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে, লাসিথ মালিঙ্গা কিংবা ক’দিন আগে সাদা পোশাক তুলে রাখা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, এই সবারই বিকাশ শ্রীলঙ্কার স্কুল ক্রিকেটে। লঙ্কান সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই স্কুল ক্রিকেট কিংবা বাচ্চাদের খেলাধুলা নিয়ে বিরাট আগ্রহ।

২০০০ সালের ৪ ডিসেম্বর জন্ম সোনালের। কলম্বোর মহানামা কলেজে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে ব্যাট-বল হাতে নেন পেশাদারিত্বে। এর আগে তিনি ছিলেন ডি লা স্যালে কলেজে। বাঁহাতি ব্যাটার এবং বাঁ-হাতি অফস্পিনার হিসেবে নিজেকে গড়েছেন নিরন্তর পরিশ্রমে।
ডি লা স্যালে কলেজ থেকে টেস্ট ক্যাপ পাওয়া একমাত্র ক্রিকেটার তিনি। খেলাধূলায় এই স্কুল বেশ প্রসিদ্ধ হলেও এই স্কুল থেকে আগে কেউ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাননি। সেই খরা ঘুচালেন সোনাল।
মাত্র ২৪ বছর বয়সেই সোনাল ইতোমধ্যে খেলে ফেলেছেন ৪৮ টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ, ৬২ টি লিস্ট ‘এ’, আর ১৮ টি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি। তবে সবচেয়ে উজ্জ্বল তাঁর লাল বলের পারফরম্যান্স — ২৪৭৮ রান, সাতটি শতক ও ১২ টি অর্ধশতক করেছেন, গড় ৪০.৬২। এমন গড় যেকোনো দলের যে কারও জন্যই ঈর্ষার কারণ।

শুধু ব্যাট নয়, বল হাতেও যেন মন্ত্রপাঠ করেন তিনি। ৬৯ ইনিংসে ৯৯ উইকেট, বোলিং গড় ২৪.৭৯ আর স্ট্রাইক রেট ৪৪.১ — পরিসংখ্যান বলছে, দিনুশা শুধু বিকল্প নন, তিনিই হতে পারেন মূল অস্ত্র। বিশেষ করে, কলম্বোর স্পিন বান্ধব উইকেটে তিনিই হতে পারেন লঙ্কানদের ‘গো-টু ম্যান’।
সোনাল দিনুশার অভিষেক তাই শুধুই আরেকটি নাম নয় — এটি একটি সম্ভাবনার, প্রতিশ্রুতির সূচনা। এটা নতুন এক প্রজন্মের গল্প। আর সেই গল্পের পাতায় পাতা লেখা লঙ্কান স্কুল ক্রিকেটের বীরত্ব।
ম্যাথুস জায়গা কেউ পূরণ করতে পারবে কি না, সেই প্রশ্ন থাকবেই। দিনুশা হয়তো পারবেন, হয়তো পারবেন না, তবে যিনি পারবেন – তাঁকেও উঠে আসতে হবে শ্রীলঙ্কার স্কুল ক্রিকেট থেকেই।











