মিরাজই কেবল বিশ্বাস করেছিল, বাংলাদেশ জিতবে

ম্যাচের আগের দিনই মেহেদী হাসান মিরাজ রেখেছিলেন বিশ্বাস। বলেছিলেন, 'ইনশাআল্লাহ পরের ম্যাচ আমরা জিতবই।' সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে প্রেমাদাসার বুকে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষের খরা অবশেষে কাটল। এই রানাসিংহে স্টেডিয়ামে যে এর আগে কখনোই স্বাগতিকদের হারাতে পারেনি টাইগাররা।

ম্যাচের আগের দিনই মেহেদী হাসান মিরাজ রেখেছিলেন বিশ্বাস। বলেছিলেন, ‘ইনশাআল্লাহ পরের ম্যাচ আমরা জিতবই।’ সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে প্রেমাদাসার বুকে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষের খরা অবশেষে কাটল। এই রানাসিংহে স্টেডিয়ামে যে এর আগে কখনোই স্বাগতিকদের হারাতে পারেনি টাইগাররা।

দলের ভঙ্গুর মানসিকতা। তার উপর প্রথম ম্যাচে চোখের পলকে ঘটে যাওয়া বিপর্যয়। তবুও আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেননি মিরাজ। তার পারফরমেন্সেরও ছিল যাচ্ছেতাই অবস্থা। পাঁচ ওয়ানডে ধরে তিনি ছিলেন উইকেট শূন্য। কলম্বোর আকাশে মেঘ জমেছিল, সেই মেঘ বর্ষণ না ঘটালেও খরা কেটেছে মিরাজেরও।

সিরিজে টিকে থাকতে হলে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না। তাছাড়া র‍্যাংকিংয়ের উন্নতির চিন্তাও ছিল মাথায়। এর মধ্যেই নতুন অধিনায়ক হয়ে ৭৭ রানের বিশাল পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করতে হয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজকে। স্বাভাবিকভাবেই চাপের মাত্রা ছিল কলম্বোর লোটাস টাওয়ার সমান।

সেই চাপের ম্যাচে মিরাজ টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলেন। যদিও সেই সিদ্ধান্তের নিজেদের পক্ষে পুরোপুরি নিয়ে আসতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। মোটে ২৪৮ রানের সংগ্রহ গড়ে দল, পারভেজ হোসেন ইমনের হাফসেঞ্চুরির কল্যাণে।

সেখান থেকে ম্যাচ জিতবে বাংলাদেশ, তেমনটি হয়ত কেউই বিশ্বাস করেনি। তবে মিরাজ সম্ভবত করেছিলেন। আর সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা গেছে তার বোলিং পরিবর্তনে। বাংলাদেশের বহুদিনের ট্যাবু ভেঙে বা-হাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে, বা-হাতি তানভীর ইসলামকে বল দিতে দ্বিধা করেননি মিরাজ।

সেই সুফল পেতেও দেরী হয়নি। কামিন্দু মেন্ডিসের মত ভয়ংকর ব্যাটারকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়েছেন তানভির। তবে লঙ্কানদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের আড়ালের নায়ক অবশ্য শামীম হোসেন। তার আঁটসাঁট বোলিং চ্যানেলের লেন্থ বলগুলো শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের হাতখোলার সুযোগই দেয়নি। তাতে করে চাপ বেড়েছে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে।

 

সেই চাপেই বরং কাবু হয়েছে লঙ্কানদের গোটা ব্যাটিং অর্ডার। যদিও পারফরমার মিরাজ এখনও প্রশ্নবিদ্ধ। পাঁচ ইনিংস পর তিনি উইকেটের দেখা পেয়েছেন ঠিকই। কিন্তু শেষ চার ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছে মোটে ২৭ রান। তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যাটার। মিডল অর্ডারের গুরুদায়িত্ব তার উপরই ন্যাস্ত। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ধারাবাহিকতায় রয়েছেন মিরাজ।

অন্যদিকে উইকেট প্রাপ্তিতে তার যতটা না কৃতীত্ব, তার থেকেও বেশি কৃতীত্ব অবশ্য বাকি বোলারদের প্রাপ্য। কেননা তারাই তো রুদ্ধশ্বাস এক বলয় তৈরি করে দিয়েছিল। সেই বলয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে উইকেট না পাওয়াই বরং হতো বিস্ময়ের। তবুও দিনশেষে যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন মিরাজ, তা বাস্তবায়িত হয়েছে। এখন স্রেফ তার পারফরমেন্সের ধার ফিরলেই, কাপ্তানির অধ্যায়টুকু হতে পারে আরও রঙিন।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link