সেঞ্চুরির খরার দীর্ঘ প্রহর!

অনেক কিংবদন্তি গড়েছেন সেঞ্চুরির পাহাড়। তবে এর বিপরীত চিত্রেও রয়েছে সেঞ্চুরির খরা। যারা বহু বছর পাননি সেঞ্চুরির দেখা।

সেঞ্চুরি ক্রিকেটে এক বিশেষ অর্জন। সেঞ্চুরি মানে এক ইনিংসে নিজের নাম ইতিহাসে লেখা। যা পূরণের স্বপ্নে বিভোর থাকে প্রতিটি খেলোয়াড়। অনেক কিংবদন্তি গড়েছেন সেঞ্চুরির পাহাড়। তবে এর বিপরীত চিত্রেও রয়েছে সেঞ্চুরির খরা। যারা বহু বছর পাননি সেঞ্চুরির দেখা। চলুন দেখে নেয়া যাক সে তালিকায় আছেন  কারা!

  • অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার

অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার আফ্রিকার মাটিতে জন্ম নেওয়া এক কিংবদন্তি ক্রিকেটার। ‍যিনি জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট  ইতিহাসের এক সেরা ব্যাটার। সেরা ব্যাটার হয়েও এই কিংবদন্তি দীর্ঘ সময় ভুগেছেন সেঞ্চুরি খরায়। ৮ বছর ২৪১ দিন ধরে সেঞ্চুরি বঞ্চিত ছিলেন তিনি। ফ্লাওয়ার ১৯৯২সালে সেঞ্চুরি করেছিলেন এবং তাঁর পরবর্তী সেঞ্চুরিটি এসেছিল ২০০১ সালে।

  • মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন

‍ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন। ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়ের নাম। ১৯৮৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকেই টানা ৩ সেঞ্চুরি করে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দেন।

তবে, তিনি একটা লম্বা সময় ভুগেছেন সেঞ্চুরি খরায়। ৮ বছর ২৩৯ দিন সময় নিয়ে দুটি ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেছিলেন। ১৯৮৭ সালে সেঞ্চুরির পর তাঁর পরবর্তী সেঞ্চুরিটি এসেছিল ১৯৯৬ সালে।

  • অ্যালেক স্টুয়ার্ট 

অ্যালেক স্টুয়ার্ট ইংল্যান্ড ক্রিকেটের এক কিংবদন্তি নাম। যিনি ১৯৯০ দশকে ছিলেন এক ভরসার নাাম । তবে ইংল্যান্ডের হয়ে ১৩৩ টেস্ট ও  ১৭০ টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলা এই ব্যাটার সেঞ্চুরির আক্ষেপে পুড়েছেন লম্বা সময়। স্টুয়ার্ট সেঞ্চুরি বঞ্চিত ছিলেন ৮ বছর ৬ ‍দিন। ১৯৯১ সালের পর পরবর্তী সেঞ্চুরি পান ১৯৯৯ সালে।

  • জন্টি রোডস

তালিকায় আছে আফ্রিকান গ্রেট জন্টি রোডসের নাম। যিনি মূলত ফিল্ডিংকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। ব্যাটিংয়ে তাঁর ভূমিকা ছিল  মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবে। তবে দীর্ঘ সময় শতক বঞ্চিত ছিলেন তিনিও, যার ব্যপ্তিকাল ছিল ৫ বছর ১২৬ দিন।  ১৯৯৬ সালের পর ২০০২ সালে পেয়েছিলেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারের ছোঁয়া।

  • স্টিফেন  ফ্লেমিং

স্টিফেন ফ্লেমিং, নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক। তাঁর অধিনায়কত্বে নিউজিল্যান্ড ২০০০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতে। তবে সেঞ্চুরির খরায় নাম আছে তাঁরও। ৫ বছর ৪ দিন ধরে পাননি শতকের দেখা। ১৯৯৮ এর পর ২০০৩ সাল পর্যন্ত ব্যাট হাতে শতক খুঁজে বেড়িয়েছেন।

 

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link