এভাবে জিতে কি লাভ!

১০৪ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের জন্য বড় কোনো লক্ষ্য নয়। সেই লক্ষ্য তাড়া করে জিতলেই কি আর না জিতলেই কি! এই রান তাড়া করলেই কি বা লাভ!

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রস্তুতিতেই নজর থাকা উচিৎ ছিল। এখানে নিজের শক্তিমত্তা জানান দেওয়া দরকার ছিল। শুধু বোলিং আক্রমণ নয়, ব্যাটিং কিংবা ফিল্ডিংয়েও নিজেদের চূড়ান্ত পরীক্ষার মুখোমুখি করার দরকার ছিল। প্রতিপক্ষের বুকে ভয় ধরিয়ে জয় আনার লক্ষ্য থাকার দরকার ছিল লিটন দাসদের। কিন্তু, টিম ম্যানেজমেন্ট মিথ্যা আত্মবিশ্বাসের ভেলায় ভাসতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছে।

ভারত আসেনি, ভরসা তাই ছিল নেদারল্যান্ডস। জয় পরাজয় নয়, অংশগ্রহণই বড় কথা। আর সেই অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নিজেদের ভুল ভ্রান্তি বের করে এনে নিজেদের ভবিষ্যতর জন্য প্রস্তুত করতে হবে। ডাচদের বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক সিরিজের সেটাই মূল ভিত্তি হওয়া উচিৎ ছিল বাংলাদেশের।

কিন্তু, বাংলাদেশ দলের সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। বরং যে করেই হোক তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারাটাই মূখ্য বিষয় যেন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতলেন লিটন দাস। আবারও বোলিং নিলেন। চাইলেই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আগে ব্যাটিং করার চ্যালেঞ্জটা নেওয়া যেত, প্রথমে ব্যাট করে ব্যাটিং উইকেটেও কিভাবে ২০০-২২০ রান তোলা যায় সেই প্রস্তুতির ব্যবস্থা করা যেত।

লিটন দাস সেই পথে হাঁটেননি। কারণ, সেই সংযুক্ত আরব আমিরাত সিরিজের মত আবারও এশিয়া কাপে গিয়ে বলতে চান, ডিউ কন্ডিশনে কিভাবে বোলিং করতে হয় – সেই প্রস্তুতি তাঁর বোলারদের নেই। আরব আমিরাতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটাররা বোর্ডে বড় রান জমা করেও শেষ পর্যন্ত হেরেছিল সবগুলো ম্যাচেই।

নেদারল্যান্ডস বড় কোনো দল নয়, কখনও ছিলও না। ভারতের বিপক্ষে সিরিজটা মাঠে গড়ালে আদৌ তাঁদের এই দফায় বাংলাদেশে আসা হত না। সেখানে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে বোলিং করতে নেমেও বাংলাদেশ যে বিরাট হাতি ঘোড়া মারতে পেরেছে ব্যাপারটা তেমনও নয়।

জোড়া আঘাতে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন নাসুম আহমেদ। প্রতিষ্ঠিত শক্তির বিপক্ষে যে দু’টো ডেলিভারি থেকে নির্ঘাত ছক্কা হত, কারণ দু’টোই ছিল শর্ট ডেলিভারি। ভারত বা পাকিস্তানের বিপক্ষে এরকম ডেলিভারির খেসারত দিতে হবে হাজারগুণে। পুরো ম্যাচ জুড়েই বাংলাদেশের বোলিং কমপ্যাক্ট ছিল না। উইকেট এসেছে ঠিকই, কিন্তু বোলিংয়ে ধার ছিল না।

ধার ছিল না ফিল্ডিংয়েও। পুরো ইনিংস জুড়ে বাংলাদেশের গ্রাউন্ড ফিল্ডিং ঠিকঠাক ছিল, দুই-একটা ক্যাচ মিস বা রান আউট বাংলাদেশ মিস করেছে। তুলনামূলক খর্বশক্তির দলের বিপক্ষে খেলা বলেই এই চেষ্টা গুলো যথেষ্ট ছিল না। এই ভুলগুলো বেশি গুরুতর হয়ে চোখে ধরা পড়েছে। ১০৪ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের জন্য বড় কোনো লক্ষ্য নয়। সেই লক্ষ্য তাড়া করে জিতলেই কি আর না জিতলেই কি! এই রান তাড়া করলেই কি বা লাভ!

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link