৯২ মিটারের বিশাল এক স্লগ স্যুইপ। লাগলে বাড়ি বাউন্ডারি, তানজিদ হাসান তামিমের এটাই প্রধান ইউএসপি। তাঁর ব্যাটে বল লাগলে বাউন্ডারি হবেই। এই একটা শটেই তামিম বুঝিয়ে দিলেন, তিনি আছেন। তিনি যেদিন ছন্দে থাকবেন, একাই বদলে দেবেন ম্যাচের ভাগ্য।
জয় সূচক রানও আসল তাঁর ব্যাট থেকে। স্ট্রেইট ডাউন দ্য গ্রাউন্ড। বাউন্ডারি, মিড অন দিয়ে বিদ্যুৎ গতিতে বল বেড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে নিশ্চিত হল বাংলাদেশের সিরিজ জয়। জয়সূচক চারটি রানের সাথে সাথেই যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলেন তানজিদ হাসান তামিম।
তিনি আগের ম্যাচেও ভাল একটা সূচনা পেয়েছিলেন। বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। এর আগের দুই ম্যাচে রান পাননি। ফলে, অদৃশ্য একটা চাপ তাঁর সঙ্গী ছিল। এবার সেই চাপটা জয় করলেন। টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরি পেলেন।

রানের মধ্যে যে ছিলেন না, সেটা তাঁর ইনিংসের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। একাদশ তম ওভার শেষেও তাঁর রান ছিল ৩২ বলে ৩৪। এর পরেই খোলস ছিড়ে বের হতে পারেন। শেষ পর্যন্ত ৪০ বলে ৫৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। চার বাউন্ডারি আর দুই ওভার বাউন্ডারিতে সাজানো এই ইনিংস নি:সন্দেহে এশিয়া কাপের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে তানজিদ তামিমের।
তবে, এর আগে তানজিদ তামিমের ভূমিকাটা পরিস্কার হওয়া দরকার। শুরুর ব্যাটিংয়ে তাঁর হাতে হাত খুলে খেলার লাইসেন্স থাকা দরকার। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দুই ম্যাচে তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরণ দেখে মনে হয়নি, তিনি সেই অথোরিটি নিয়ে খেলতে পেরেছেন।
মনে রাখতে হবে তানজিদ তামিমকে ধারাবাহিক হওয়ার দিব্যি কেউ দেয়নি, তিনি তিন-চার ম্যাচ পরই রান করবেন। যেদিন রান করবেন সেদিন পার্থক্য গড়ে দেবেন। তাঁর কাজ ইনিংসের শুরুতে একটা দুর্দান্ত সূচনা এনে দেওয়া। কিন্তু, একটা-দুইট ম্যাচে রান না পেলে সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। যেদিন ছন্দে ফিরবেন সেদিন তিনিই হবেন গেম চেঞ্জার। টি-টোয়েন্টির আধুনিক ঘরানা এভাবেই চলে।

হতে পারে, একটা ব্যাড-প্যাচের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন বলেই, ইনিংসটা তানজিদ তামিমের সেরা ইনিংসগুলোর একটা হতে পারেনি। সেরা সময়ে থাকতে পারলে তানজিদ তামিম টপ অর্ডারে বাংলাদেশের সেরা শক্তির জায়গা, সেই শক্তির দখলদারিত্ব বাড়াতে তাকে সেই স্পেসটা নিশ্চিত করতে হবে টিম ম্যানেজমেন্ট। এশিয়া কাপে তামিমের একেকটা ইনিংস হতে পারে বাংলাদেশের জন্য নতুন একেকটা ইতিহাস, সেই ডাকটা কি শুনতে পারছেন তামিম?










